কাঁঠাল কিন্তু পুষ্টির রাজা, মানুষের দে’হে যেসব পুষ্টির প্রয়োজন প্রায় সবই আছে

শনিবার, জুলাই ১৮, ২০২০ ১১:২৯ পূর্বাহ্ণ

মানুষের দে’হে যেসব পুষ্টির প্রয়োজন প্রায় সবই আছে কাঁঠালের মধ্যে। এক সময় বাঙালির পুষ্টির অভাব পূরণ করতো এই কাঁঠাল। এখনও বেশির ভাগ মানুষ পুষ্টির জন্য কাঁঠাল খেয়ে থাকেন। তবে এক শ্রেণির মানুষ কাঁঠাল দেখলে নাক ছিটকান। তারা মনে করেন কাঁঠাল গরিবের খাদ্য। তা কিন্তু নয় কাঁঠাল কিন্তু পুষ্টির রাজা। এর বিচিরও রয়েছে নানা গুণ যা মানব দে’হের জন্য উপকারী। বিশেষ করে এই করোনাকালে যত পারেন কাঁঠাল খেয়ে নিতে পারেন। তাতে আপনারই উপকার।

পুষ্টিবিদরা বলছেন, কাঁঠাল পুষ্টিগুণে ভরপুর। কাঁঠালে বিটা ক্যা’রোটিন, ভিটা’মিন এ, সি, বি-১, বি-২, পটা’শিয়াম, ক্যাল’সিয়াম, ম্যাগনে’সিয়ামসহ নানা রকমের পুষ্টি ও খনিজ উপাদান পাওয়া যায়। এই সকল উপাদান আমাদের শরীরকে সুস্থ ও সবল রাখতে সাহায্য করে। এর পাশাপাশি ভিটা’মিনের চাহিদাও পূরণ করে কাঁঠাল। এবার জেনে নিন কাঁঠালের উপকারিতা সম্পর্কে:

কাঁঠাল পুষ্টি সমৃদ্ধ। এতে আছে থায়ামিন, রিবো’ফ্লাভিন, ক্যা’লসিয়াম, পটা’সিয়াম, আয়’রন, সো’ডিয়াম, জি’ঙ্ক এবং নায়াসিনসহ বিভিন্ন প্রকার পুষ্টি উপাদান। অন্যদিকে কাঁঠালে প্রচুর পরিমাণে আমিষ, শর্করা ও ভিটা’মিন থাকায় তা মানবদে’হের জন্য বিশেষ উপকারী।

কাঁঠালে আছে শক্তিশালী অ্যা’ন্টিঅক্সি’ডেন্ট। আমাদের দে’হকে ক্ষ’তিকর ফ্রির‌্যা’ডিকেলস থেকে রক্ষা করে এই অ্যা’ন্টিঅক্সি’ডেন্ট। এছাড়াও আমাদেরকে স’র্দি-কাশি রো’গের সংক্র’মণ থেকে রক্ষা করে। – কাঁঠালে চর্বির পরিমাণ সামান্য। এই ফল খাওয়ার কারণে ওজন বৃদ্ধির আ’শঙ্কা কম।

কাঁঠাল পটাশি’য়ামের উৎকৃষ্ট উৎস। ১০০ গ্রাম কাঁঠালে পটাশি’য়ামের পরিমাণ ৩০৩ মিলিগ্রাম। এই পটাশি’য়াম উচ্চ র’ক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। এ জন্য কাঁঠাল উচ্চ র’ক্তচাপে উপশম করে। – কাঁঠালে প্রচুর ভিটা’মিন-এ আছে যা রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে।

কাঁঠালে রয়েছে প্রচুর ভিটা’মিন-সি। প্রাকৃতিকভাবে মানবদে’হে ভিটা’মিন-সি তৈরি হয় না। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দাঁতের মাড়িকে শক্তিশালী করে এই ভি’টামিন-সি।- কাঁঠালে আছে ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস। যা আলসার, ক্যান্সার, উচ্চ রক্তচাপ এবং বার্ধক্য প্রতি’রোধে সহায়তা করে। – টেনশন এবং নার্ভা’সনেস কমাতে কাঁঠাল বেশ কার্যকরী।

বদহজম রোধ করে কাঁঠাল। এই ফল আঁশালো হওয়ায় কো’ষ্ঠকাঠিন্যও দূর করে। – কাঁঠালে রয়েছে খনিজ উপাদান আ’য়রন, যা দেহের র’ক্তাল্পতা দূর করে। – কাঁঠালে আছে বিপুল পরিমাণ খনিজ উপাদান ম্যা’ঙ্গানিজ, যা র’ক্তে শর্করা বা চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

এই বৃহৎ ফলে রয়েছে ম্যাগ’নেসিয়াম ও ক্যাল’সিয়াম। যা মানব দে’হের হাড়ের গঠন ও হাড় শক্তিশালীকরণে ভূমিকা পালন করে। এছাড়া র’ক্ত সংকোচন প্রক্রিয়া সমাধানেও ভূমিকা রাখে। – কাঁঠালে আছে ভিটা’মিন বি৬। হৃ’দরোগের ঝুঁ’কি কমায় এই ভি’টামিন বি৬। – ছয় মাস বয়সের পর থেকে মায়ের দুধের পাশাপাশি শিশুকে কাঁঠালের রস খাওয়ালে শিশুর ক্ষুধা নিবারণ হয়। অন্যদিকে তার প্রয়োজনীয় ভিটা’মিনের অভাব পূরণ হয়।

চিকিৎসা শা’স্ত্রের মতে প্রতিদিন ২০০ গ্রাম তাজা পাকা কাঁঠাল খেলে গ’র্ভবতী মহিলা ও তার গ’র্ভধারণকৃত শিশুর সব ধরনের পুষ্টির অভাব দূর হয়। গ’র্ভবতী মহিলারা কাঁঠাল খেলে তার স্বাস্থ্য স্বাভাবিক থাকে এবং গ’র্ভস্থসন্তানের বৃদ্ধি স্বাভাবিক হয়। দুগ্ধদানকারী মা তাজা পাকা কাঁঠাল খেলে দুধের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।

কাঁঠালের বিচির উপকারিতা :

কাঁঠালের বিচিতে রয়েছে ভিটা’মিন বি-১ ও ভিটা’মিন বি-১২ এর ভালো উৎস। এ ছাড়া আছে ভিটা’মিন এ, ভিটামিন সি, থা’য়ামিন, না’য়াসিন, লিগন্যা’ন, আইসো’ফ্ল্যা’ভোন এবং স্যাপো’নিনের মতো ফাইটো ক্যামি’ক্যালস। যা মানব দে’হের জন্য উপকারী।

কাঁঠালের বিচিতে থাকা এন্টি অ’ক্সিডেন্টগুলো ক্যা’ন্সার প্রতিরোধী এবং বার্ধক্যের প্রভাব সৃষ্টিকারি উপাদানগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে। – ফাইবার ও কমপ্লে’ক্স কার্বোহাইড্রে’টের কারণে এর গ্লাই’সেমিক ইনডেক্স কম। ফলে এটি ওজন কম বাড়িয়েই যোগাতে পারে অনেক এনার্জি। – কাঁঠাল বিচির প্রো’টিন অত্যন্ত উপকারি। মাছ, মাং’স যাদের কম খাওয়া হয় তাদের জন্য আমিষের চাহিদা মেটাতে কাঁঠাল বিচি উৎকৃষ্ট খাবার।

কাঁঠালবিচির জীবা’নুনাশক গুণও রয়েছে। এটি Escherichia coli I Bacillus megaterium ব্যাক্টে’রিয়ার বিরু’দ্ধে কার্যকর এবং এতে থাকা বিশেষ উপাদান Jacalin এইডস রোগীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নয়নে সফল বলে প্রমাণিত হয়েছে। – এতে থাকা পটা’শিয়াম ব্ল্যা’ড সু’গার নিয়ন্ত্রণে রাখে। তথ্যসূত্র : পুষ্টিবিদদের গবেষণা এবং উইকিপিডিয়া।