মীর কাসেম আলীর কয়েক শ কোটি টাকার সম্পত্তি হা’তিয়ে নিয়েছেন পাপুল!

শুক্রবার, জুন ১৯, ২০২০ ১০:৫১ পূর্বাহ্ণ

কুয়েতে মা’নবপাচার এবং প্রবাসীদের উ’পার্জনের টাকা কৌ’শলে হা’তিয়ে নেওয়াসহ বিভিন্ন জা’লিয়াতি ও ভিসা ট্রেডিংয়ের মাধ্যমে কয়েক হাজার কোটি টাকা বাগিয়ে নিয়েছে লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী শহিদ ইসলাম পাপুল ও তাঁর পরিবার।

শুধু তাই নয়, অ’ভিযোগ রয়েছে মীর কাসেম আলীর সঙ্গে পাপুলের ছিল ব্যবসায়িক কারবার। যু’দ্ধাপ’রাধের অ’ভিযোগে মৃ’ত্যুদ’ণ্ডের পর মীর কাসেমের ব্যাবসায়িক কয়েক শ কোটি টাকার সম্পত্তি আ’ত্মসাৎ করেন পাপুল। প্রাথমিক ত’দন্তে পাপুল, তাঁর স্ত্রী সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা ইসলাম, মেয়ে ও শ্যালিকার নামে সম্পদের একাধিক তথ্য-উ’পাত্ত পেয়েছে দু’দকের অ’নুস’ন্ধান দল।

এরই মধ্যে বিভিন্ন ব্যাংকে লেনদেনের তথ্য-উপাত্ত চেয়ে চিঠি পাঠানোর পাশাপাশি পাপুলের স্ত্রী, মেয়ে ও শ্যালিকার দে’শত্যাগেনি’ষেধা’জ্ঞা চেয়ে ইমিগ্রেশনসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগে চিঠি দিয়েছে দু’দকের অ’নুসন্ধান দল। এরই ধারাবাহিকতায় গত বুধবার সকালে পাপুল ও তাঁর স্ত্রী সেলিনার নির্বাচনী হলফনামা পেতে নির্বাচন কমিশনে তাগিদপত্র দিয়েছে দুদক।

ওই দিনই অ’র্থপা’চার ও অ’বৈধ স’ম্পদ অর্জনের অ’ভিযোগ ত’দন্তের স্বা’র্থে এনবিআরের কাছে পাপুল দম্পতি ও তাঁর শ্যালিকার আয়করের নথিপত্র চেয়েছে সংস্থাটির অনু’সন্ধান কর্মকর্তা উপপরিচালক মো. সালাহউদ্দিন। নাম প্র’কাশে অ’নিচ্ছুক দু’দকের একজন কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

আয়কর নথিপত্রের জন্য বুধবার দু’দকের প্রধান কা’র্যালয় থেকে এনবিআরের কর অঞ্চল-৫ ও কর অঞ্চল-১৩-এর ডেপুটি কমিশনার বরাবর চিঠি দেওয়া হয়। এনবিআরে দেওয়া চিঠিতে পাপুল, স্ত্রী সেলিনা ইসলাম ও সেলিনার বোন জেসমিনের গত তিন অ’র্থবছরের আ’য়কর রি’টার্নসহ সং’শ্লিষ্ট ন’থিপত্র চাওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন ও দু’দক সূত্রে জানা যায়, নির্বাচন কমিশন সচিবের কাছে পাপুল দ’ম্পতির নির্বাচনী হলফনামা চেয়ে তা’গিদপত্র দিয়েছে গত মঙ্গলবার পাঠানো চিঠিতে। এর আগে গত ১৬ মার্চ নির্বাচনে পাপুল ও তাঁর স্ত্রী সংর’ক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা ইসলামের নির্বাচন পরিচালনার জন্য টাকা পাওয়ার স’ম্ভাব্য উ’ৎসর বিবরণী, স’ম্পদ ও দায় এবং বা’র্ষিক আয় ও ব্যয়ের বিবরণী, দাখিল করা শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদসহ অন্যান্য রেকর্ডপত্র চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছিল।

দুদকের এক কর্মকর্তা বলেন, দুদকের প্রাথমিক ত’দন্তে এমপি পাপুলসহ তাঁর স্ত্রী, মেয়ে ও শ্যা’লিকার নামে কোটি কোটি টাকার স’ম্পদের তথ্য-উ’পাত্ত পাওয়া গেছে। ওই সব তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিভিন্ন দ’প্তরে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তাঁরা যেন দেশ ত্যা’গ করতে না পারেন সে বিষয়ে ই’মিগ্রেশনে চিঠি দেওয়া হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কয়েক শ কোটি টাকার স’ম্পত্তি রয়েছে। বিদেশে টাকা পাচারের ত’থ্য-প্র’মাণও মিলেছে।

এদিকে জামশেদ কবীর বাকি বিল্লাহ, নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়ন, সালাহউদ্দিন টিপু ও আরিফ নামে পাপুল দম্পতির চার ঘ’নিষ্ঠ ব্য’ক্তির স’ম্পদের হিসাব পেতে সা’বরে’জিস্ট্রার অফিসে চিঠি দিয়েছে দু’দক।

কুয়েতের বিভিন্ন গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, মা’নব, অ’র্থপা’চারসহ বিভিন্ন জা’লিয়াতিতে জ’ড়িত এমন কয়েক শ ব্য’ক্তির তা’লিকা করেছে কুয়েত সরকার। সেই তালিকা ধরেই সম্প্রতি বি’তর্কিত শতাধিক ব্য’ক্তিকে গ্রে’প্তার করে দেশটির গো’য়েন্দা বিভাগ। সেই অ’ভিযানেই গ্রে’প্তার হন বাংলাদেশের এমপি পাপুল।

মা’নবপা’চারকা’রীদের নাম পেয়েছেন ত’দন্তকা’রীরা সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলের ‘মা’নবপাচা’রচ’ক্রের’ সঙ্গে জ’ড়িতদের নাম পেয়েছেন কুয়েতের ত’দন্তকা’রীরা। কুয়েতের উপপ্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আনাস আল-সালেহ গত বুধবার এ তথ্য জানান। এ সময় তিনি মা’নবপা’চারচ’ক্রের বি’রুদ্ধে হুঁ’শিয়ারি দেন। এদিকে পাপুলের দুই সহযোগীর বি’রুদ্ধে গত বুধবার কুয়েতে গ্রে’প্তারি প’রোয়ানা জারি হয়েছে। এমপি পাপুল কিভাবে কুয়েতে ঢুকেছেন তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে ওই দেশটির সংসদে।

কুয়েতের দৈনিক আল রাই পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাপুলের বি’রুদ্ধে জ’বানবন্দি দেওয়া ব্য’ক্তিরা তাঁকে ‘মা’ফিয়া বস’ হিসেবে অ’ভিহিত করেছেন। গ’রিব ও নিম্ন আয়ের শ্রমিকরা পা’পুলকে ‘কর’ (চাঁ’দা) দিতে বা’ধ্য হতেন।