
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলার কালিকচ্ছ ইউনিয়নের গলনিয়া গ্রামের বাসিন্দা ব্যবসায়ী ও মেসার্স সিয়াম ব্রিকস এর মালিক মন মিয়া বলেছেন, চাঁদাবাজ মুক্ত পরিবেশে ব্যবসা করার সুযোগ চাই। বিগত ফ্যাসিষ্ট সরকারের আমলে জন্ম নেয়া সরাইল উপজেলার কালিকচ্ছ গ্রামের মফিজুল ইসলাম ওরফে মফিজুল মাস্টার এর পুত্র মোঃ জহিরুল ইসলাম ওরফে সাহিল মিয়ার দীর্ঘদিনের অব্যাহত চাঁদাবাজির কারণে ইটভাটা পরিচালনা করতে পারছি না। এ বিষয়ে আমি সম্প্রতি পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং পুলিশ সুপার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সমীপে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিগত ২০২৩ সাল থেকে চাঁদাবাজ সাহিল মিয়া এ অঞ্চলের ইটভাটায় নানা অজুহাতে চাঁদা আদায় করে আসছে। তার সাথে যুক্ত রয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের এক শ্রেণীর কর্মকর্তা, কর্মচারী। তারা সাহিল মিয়ার চাঁদাবাজির নেপথ্যের অংশীদার। সাহিল মিয়াকে চাঁদা দিতে অস্বীকার করলেই সাহিল মিয়া মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেন পরিবেশ অধিদপ্তর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কার্যালয়ে।’’
এ প্রসঙ্গে মেসার্স সিয়াম ব্রিকস এর মালিক মন মিয়া বলেন, গত ৫ জানুয়ারি ২০২৬ চাঁদাবাজ মোঃ জহিরুল ইসলাম ওরফে সাহিল মিয়া মেসার্স সিয়াম ব্রিকস, গলনিয়া, কালিকচ্ছ, সরাইল, ব্রাক্ষণবাড়িয়া এবং তার পার্শ্ববর্তী অপর ২ টি ইটভাটা নিউ সফল ব্রিকস ওয়ান, ও মেসার্স নিউ সফল ব্রিকস ২ মালিকের কাছ থেকে ১০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেন। ঐ টাকা দিতে অস্বীকার করায় বিগত ১১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে মোঃ জহিরুল ইসলাম ওরফে সাহিল মিয়া উপপরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া বরাবরে মেসার্স সিয়াম ব্রিকস এর নামে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। উক্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে পরিবেশ অধিদপ্তর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা অফিস আমার ইটভাটায় অভিযান চালানোর জন্য ম্যাজিস্ট্রেট চেয়ে পরিচালক মনিটরিং এন্ড ইনফোর্সমেন্ট এ লিখিত আবেদন করেন বলে তিনি বিশ্বস্থ সূত্রে জানতে পারেন।
অথচ ইটভাটা তিনটি আধুনিক উন্নত জিগজ্যাগ প্রযুক্তির, যার দ্বারা পরিবেশ দূষণের সম্ভাবনা নেই। তার মোবাইল নাম্বার, ইমেইল আইডি এবং পিতার নাম গোপন রেখে উদ্দেশ্য প্রনোদিত অসম্পন্ন অভিযোগের বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর কোন প্রকার যাচাই, বাছাই না করে একতরফাভাবে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ইটভাটা উচ্ছেদ করবে মর্মে উদ্দত হয়েছে, যা খুবই দুঃখজনক বলে তিনি মন্তব্য করেন। কোনোরূপ তদন্ত না করে এমন আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিলে প্রতিটি ভাটায় কর্মরত ১৫০-২০০ জন ব্যক্তি কর্মহীন হয়ে পড়বে এবং উক্ত পরিবারগুলো মারাত্বক বিপদগ্রস্থ হয়ে পড়বে। ইটভাটার মালিকগণ, জহিরুল ইসলাম ওরফে সাহিল এর বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্তর্পূ্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান। তার সঠিক বিচার না হলে এরপর অন্য কোনো ইটভাটা তার চাদাবাজীর ছোবলে পরবে।
উল্লেখ্য যে, মোঃ জহিরুল ইসলাম আমাদের নিকট থেকে চাঁদা আদায় করতে ব্যর্থ হয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা দপ্তরের সাথে যোগসাজসে আমাদের বিভিন্ন ইটভাটায় অভিযান পরিচালনার নামে চাঁদাবাজির একটি পরিবেশ তৈরীর পায়তারা করছে। এ ধরনের ঘটনা ঘটলে স্থানীয় মহল ও ভাটায় কর্মরত শ্রমিকদের মধ্যে গভীর অসন্তোষ এ আইন শৃঙ্খলার অবনতি ঘটতে পারে।
এ বিষয়ে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে অভিযান পরিচালনার অনুরোধ করছি। মেসার্স সিয়াম ব্রিকস এর স্বত্ত্বাধিকারী মোঃ মন মিয়া বলেন ”আমি ২০২২ সালে মেসার্স ২২২ ব্রিকস এর মালিক ইমরান মিয়ার কাছ থেকে সম্পূর্ণ বৈধ ভাটা ক্রয় করে আমার জীবনের বিগত ২৫টি বছর আমার প্রবাস জীবনের সমুদয় উপার্জিত অর্থ এই ইটভাটায় বিনিয়োগ করেছি। আমার সম্বল বলতে, আমার আশ্রয় বলতে, আমার সর্বশেষ জীবন প্রদীপ বলতে আমি আমার ইটভাটাকে জানি।”আমি বৈধ ইটভাটা জীবনের পুজি ও সমুদয় সম্বল দিয়ে ইটভাটাটি ক্রয় করি। আমি চাঁদাবাজ জহিরুল ইসলামের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোঃ জহিরুল ইসলামের মুঠোফোন নাম্বারে যোগাযোগ করলে তিনি এই প্রতিনিধির ফোন রিসিভ করেন নাই।
ইটভাটার মালিক মন মিয়া পরিশেষে বলেন ’’ আমি নিরুপায় হয়ে এ বিষয়ে মহাপরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং পুলিশ সুপার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সমীপে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি।

