
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে নিজ বাড়ি থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থী অনন্য গাঙ্গুলীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ রোববার সকালে কোটচাঁদপুর বাজারপাড়ার হাইস্কুল সড়কের একটি বাড়ি থেকে অনন্য গাঙ্গুলী (২৫) নামের ওই শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করা হয়।
তিনি কোটচাঁদপুর বাজারপাড়ার হাইস্কুল সড়কের সাবেক প্রভাষক প্রদ্যুৎ কুমার গাঙ্গুলীর ছেলে।
অনন্যের মা রাধা রানী গাঙ্গুলী বলেন, ‘শনিবার রাতে সে ঢাকা থেকে বাড়িতে আসে। রাতে খাবার খেয়ে সে তার শোওয়ার ঘরে চলে যায়। সকাল ৮টার দিকে নাশতা বানিয়ে খাওয়ার জন্য ডাকছিলাম। এ সময় তার কোনো সাড়া না পেয়ে পাশের জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে দেখতে পাই, ফ্যানের সঙ্গে অনন্য ঝুলছে। এরপর পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে।’
রাধা রানী বলেন, ‘সে বাড়ি আসার পর আগের মতোই আচরণ করেছে। আমার সঙ্গে কোনো দিন কোনো বিষয় নিয়ে মন খারাপের ঘটনা ঘটেনি। তবে কেন সে এ ধরনের ঘটনা ঘটাল, বুঝতে পারছি না। অনন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ছিল।’
মা রাধা রানী কোটচাঁদপুর বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। প্রদ্যুৎ কুমার গাঙ্গুলী কোটচাঁদপুর মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের সাবেক প্রভাষক। তাঁর মৃত্যুতে শোকের মাতম চলছে পরিবারটিতে।
কোটচাঁদপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এনায়েত আলী খন্দকার বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এরপর স্বজনদের সহায়তায় শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। তিনি বলেন, মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে তেমন কিছু জানা যায়নি। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে জানানো সম্ভব হবে।
পিএসসি, জেএসসি, এসএসসি—তিন পরীক্ষায়ই মেধার প্রমাণ দিয়ে বৃত্তি পেয়েছিলেন অনন্য গাঙ্গুলী। কিন্তু কলেজে উঠে শারীরিক ও মানসিক কারণে প্রায় পাঁচ বছর পড়ালেখা থেকে দূরে থাকতে হয়।
ক্লাসে কখনো নিয়মিত, কখনো অনিয়মিত—এভাবেই চলেছে দশম শ্রেণি পর্যন্ত। এসএসসি পরীক্ষার আগে নির্বাচনী পরীক্ষায়ও ফল ভালো হয়নি তাঁর। তবে ২০১৬ সালে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫, সঙ্গে যশোর বোর্ডের সাধারণ বৃত্তিও পান।
২০২২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন করেন অনন্য গাঙ্গুলী।
আমার বার্তা/এমই

