
মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ২০১১ সালের একটি দলিলে মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে দলিল সম্পাদনের অভিযোগের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সনদপ্রাপ্ত দলিল লিখককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে জেলা রেজিস্ট্রারের কার্যালয়।
জেলা রেজিস্ট্রারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে "মৃতকে জীবিত দেখিয়ে দলিল সম্পাদন" শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদ এবং একই বিষয়ে একজন ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
৪ জুন ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত সংবাদে দাবি করা হয়, গজারিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ১৯০৫/২০১১ নম্বর দলিলের মাধ্যমে একটি কোম্পানির অনুকূলে মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে দলিল নিবন্ধন করা হয়েছে। এতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ক্ষতি ও সুনামহানির অভিযোগও উঠে আসে।
এ ঘটনায় সনদপ্রাপ্ত দলিললিখক হাফেজ আহম্মদ প্রধান এবং তার সহকারী জুনিয়র লেখক মো. রেফায়েত উল্লাহর সম্পৃক্ততার অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া গত ৩ জুন মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি একই অভিযোগে জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে লিখিত আবেদন করেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে জারি করা কারণ দর্শানোর নোটিশে অভিযোগের বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কেন অভিযোগটি আমলে নিয়ে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না এবং কেন বিষয়টি পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে আইনানুগ নিষ্পত্তি করা হবে না, সে বিষয়ে সন্তোষজনক জবাব দিতে বলা হয়েছে।
একই স্মারকে গজারিয়া সাব-রেজিস্ট্রারকে অভিযোগে উল্লিখিত ১৯০৫/২০১১ নম্বর দলিলের নিবন্ধনসংক্রান্ত সব তথ্য সংগ্রহ করে তদন্ত প্রতিবেদন জেলা রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে তৎকালীন সাব-রেজিস্ট্রার কী ভিত্তিতে দলিলটি নিবন্ধনের জন্য গ্রহণ করেছিলেন এবং দলিলের সম্পাদনকারী ব্যক্তি ওই সময়ে জীবিত ছিলেন কিনা, তা যাচাই করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
এ ছাড়া সদর রেকর্ড রুমে সংরক্ষিত সংশ্লিষ্ট দলিলের তথ্য গজারিয়া সাব-রেজিস্ট্রারকে সরবরাহ করে তদন্তে সহযোগিতা করার জন্য সদর রেকর্ড রুমের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জেলা রেজিস্ট্রারের কার্যালয় জানিয়েছে, তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আমার বার্তা/এমই

