
কোনো ধরনের পূর্বঘোষণা ছাড়াই সুনামগঞ্জ শহরে আবাসিক ও বাণিজ্যিক খাতে গ্যাস সরবরাহ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শহরবাসী। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুর থেকে শুরু হওয়া এ সংকটে অসংখ্য পরিবার রান্না করতে পারেনি। একই সময়ে গ্যাস না পাওয়ায় সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতেও তৈরি হয়েছে যানবাহনের দীর্ঘ সারি।
গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হতে কত সময় লাগবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেনি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ। বরং পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কার কথা জানিয়ে গ্রাহকদের আপাতত বিকল্প উপায়ে রান্নার প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
জালালাবাদ গ্যাস টি অ্যান্ড ডি সিস্টেম লিমিটেডের সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক বিতরণ কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় তাদের ৪ হাজার ১৫৫টি আবাসিক সংযোগ এবং ৫২টি কলোনি সংযোগ রয়েছে। এছাড়া ২৮টি বাণিজ্যিক, দুটি শিল্প, দুটি সিএনজি ফিলিং স্টেশন এবং দুটি জেনারেটর সংযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে জেলার প্রায় ৬ হাজার সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ২৫০টি লেগুনা, ৪৫০টি কার ও মাইক্রোবাস এবং শতাধিক বাস ও ট্রাক এই গ্যাস সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল।
শহরের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা জানান, মঙ্গলবার দুপুরের দিকে হঠাৎ করেই চুলার গ্যাসের চাপ কমে যায়। প্রথমে অনেকেই এটিকে সাময়িক সমস্যা মনে করলেও পরে দেখা যায় প্রায় পুরো শহরেই একই অবস্থা। কোথাও কোথাও অল্প সময়ের জন্য সামান্য চাপ ফিরে এলেও তা দিয়ে রান্নার কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি।
পশ্চিম তেঘরিয়া এলাকার বাসিন্দা তানজিনা বেগম বলেন, দুপুরের রান্না শুরু করার কিছুক্ষণ পরই গ্যাস চলে যায়। প্রথমে তিনি চুলার সমস্যা ভেবেছিলেন। পরে প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন, পুরো এলাকায় একই সংকট চলছে। আগাম কোনো ঘোষণা থাকলে অন্তত আগে থেকেই রান্নার ব্যবস্থা করা যেত। শেষ পর্যন্ত খবরের কাগজ, খাতা জ্বালিয়ে কোনোমতে রান্না শেষ করতে হয়েছে।
বড়পাড়া এলাকার গৃহিণী সালমা বেগমও একই অভিজ্ঞতার কথা জানান। তিনি বলেন, ভাত বসানোর পর হঠাৎ গ্যাস বন্ধ হয়ে যায়। অনেকক্ষণ অপেক্ষা করেও পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় কাগজ জ্বালিয়ে ভাত রান্না করেন। পরে প্রতিবেশীর সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করে তরকারি রান্না শেষ করতে হয়েছে।
অনেক পরিবার দুপুরের খাবার সময়মতো খেতে পারেনি। কেউ কেউ বিকল্প জ্বালানির ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হয়েছেন।
অন্যদিকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতেও অচলাবস্থা তৈরি হয়। শহরের সিনথিয়া ফিলিং স্টেশনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও গ্যাস পাননি চালকেরা। অনেকের ফিরে যাওয়ার গ্যাস না থাকায় রাতভর পাম্পেই অবস্থান নিয়েছেন।
সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক ইসলাম মিয়া বলেন, সাধারণ দিনেও পর্যাপ্ত গ্যাস পাওয়া যায় না। কিন্তু মঙ্গলবার একেবারেই গ্যাস সরবরাহ হয়নি। গাড়ি চালাতে না পারলে তাদের আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে যায়, যা পরিবার চালানোর ক্ষেত্রে বড় সংকট তৈরি করে।
কারচালক নবীর হোসেন জানান, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড থেকে যাত্রী নিয়ে সিলেটের উদ্দেশ্যে রওনা দেই। গ্যাস নেওয়ার জন্য যখন পাম্পে যাই, তখন শুনি গ্যাস নেই। পরে যাত্রীদের অন্য গাড়িতে তুলে দিতে হয়েছে।
জালালাবাদ গ্যাস টি অ্যান্ড ডি সিস্টেম লিমিটেডের সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক বিতরণ কার্যালয়ের আবিকা প্রধান মো. মেহেদী হাসান ঢাকা পোস্টকে বলেন, জাতীয় গ্রিডে হঠাৎ গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় স্থানীয়ভাবে সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। বিষয়টি তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তিনি জানান, দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও একই ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছে। কবে নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তাই গ্রাহকদের আপাতত বিকল্প ব্যবস্থায় রান্নার প্রস্তুতি রাখার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

