
গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক বাণিজ্য জলপথ হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজগুলো থেকে ইরানকে টোল তুলতে দেওয়া হবে না বলে আবারও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, এ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান অনড়।
ইরানের সঙ্গে নির্ধারিত সংলাপে যোগ দিতে গতকাল শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের জয়েন্ট বেইস অ্যান্ড্রুজ বিমানঘাঁটি থেকে পাকিস্তানের উদ্দেশে রওনা হয় যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রতিনিধি দল। এ সময় সেখানে ডোনাল্ড ট্রাম্পও উপস্থিত ছিলেন।
মার্কিন প্রতিনিধিদের বহনকারী বিমানটি ছেড়ে যাওয়ার পর বিমানঘাঁটিতে উপস্থিত সাংবাদিকরা হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলো থেকে ইরানের টোল আদায় নিয়ে প্রশ্ন করেন। জবাবে ট্রাম্প বলেন, “নাম আমরা এমনটা হতে দেবো না। এটা আন্তর্জাতিক জলপথ। আমরা এমনটা কখনও হতে দেবো না।”
জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য হরমুজ প্রণালি খুব গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য জলপথ। বিশ্বের মোট জ্বালানির এক পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ অভিযান শুরুর পর গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারি করে ইরান। পরে মার্চের মাঝামাঝি সময়ে এই প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলো থেকে টোল আদায়ের সিদ্ধান্ত নেয় ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকার।
গত ৯ এপ্রিল ইরানের সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)- এর বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়ালি স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেসব জাহাজ পার হবে তাদের আগে থেকেই টোল পরিশোধ করতে হবে। ক্রিপ্টো কারেন্সি বা চীনের মুদ্রা ইউয়ানে এই টোল পরিশোধ করতে হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির চুক্তি চলা পর্যন্ত এভাবে টোল আদায় হবে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী তেলবাহী জাহাজগুলোকে প্রতি ব্যারেল তেলের জন্য ১ ডলার করে টোল আদায় করা হবে বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে জানিয়েছেন ইরানের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা।
সূত্র : এএফপি, গালফ নিউজ

