
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও তিন শতাধিক মানুষ। এ ঘটনায় ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের দায়ী করেছে সৌদি আরব। হামলার নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা।
শনিবারের (১০ অক্টোবর) এ হামলাকে এক দশকের বেশি সময়ের মধ্যে সৌদি আরবে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলাগুলোর একটি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে চারজন সৌদি নাগরিক, দুজন বাংলাদেশি এবং যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান ও মিশরের একজন করে নাগরিক রয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নিন্দা, যুদ্ধে যোগ দেওয়ার ইঙ্গিত ট্রাম্পের
সৌদি বিমানবন্দরে হামলাকে ‘ভয়াবহ’ বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে শিগগির কথা বলবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
একই সঙ্গে, হুথিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র যোগ দেবে কি না, তা বিবেচনা করছেন বলে জানান ট্রাম্প। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র জানতে পেরেছে। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, হুথিদের হামলায় একজন মার্কিন নাগরিক নিহত হয়েছেন। তিনি এসব হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরব ও দেশটির জনগণের পাশে রয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের পরিবার ও স্বজনদের প্রতিও সমবেদনা জানান তিনি।
জাতিসংঘ বলছে, আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি
ইয়েমেনবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত হ্যান্স গ্রুন্ডবার্গ সৌদি আরবের বেসামরিক বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী হামলাকে সংঘাতের ‘গুরুতর বিস্তার’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, এ ধরনের হামলা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। একই সঙ্গে এটি সহিংসতার চক্রকে দীর্ঘায়িত করে এবং ইয়েমেনে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তোলে। বেসামরিক স্থাপনায় হামলার কারণে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ছে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
মিশর ও কাতারের নিন্দা
সৌদি বিমানবন্দরে হুথি বিদ্রোহীদের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে মিশরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এ হামলা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার প্রতি অবজ্ঞা প্রকাশ পেয়েছে।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও হামলার নিন্দা জানিয়েছে। তাদের ভাষ্য, এ ধরনের হামলা সৌদি আরবের সার্বভৌমত্বের গুরুতর লঙ্ঘন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা, বেসামরিক মানুষ ও বিমান চলাচলের জন্য সরাসরি হুমকি।
কাতার সৌদি আরবের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছে। দেশটির নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডের সুরক্ষায় সৌদি আরবের নেওয়া বৈধ পদক্ষেপের প্রতিও সমর্থন জানিয়েছে দোহা।
সৌদি আরবের পাশে ফিলিস্তিন ও জাপান
সৌদি আরবের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছে ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এক বিবৃতিতে তারা সৌদি আরবের নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব এবং দেশটির নাগরিক ও বাসিন্দাদের সুরক্ষায় নেওয়া পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
অন্যদিকে, সৌদি আরবে অবস্থিত জাপানের দূতাবাস হুথিদের ধারাবাহিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। দূতাবাসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা কোনো অবস্থাতেই মেনে নেওয়া যায় না।
সৌদি বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় বিভিন্ন দেশের নিন্দা ও উদ্বেগের মধ্যে আঞ্চলিক সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করেহুথিদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নিলে পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ রয়েছে। - সূত্র: আল-জাজিরা

