ই-পেপার রবিবার, ০৯ আগস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

প্রযুক্তির যুগে সনাতনী ব্যবস্থায় পড়ে আছে বিচার বিভাগ

আমার বার্তা অনলাইন:
০৯ আগস্ট ২০২৬, ১০:২৭

ব্যাংকে টাকা পাঠানো থেকে জমির খতিয়ান; শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জাতীয় পরিচয়পত্র-পাসপোর্ট, পরিবহনসহ সরকারি-বেসরকারি প্রায় সব কার্যক্রমই এখন চলে অনলাইনে। কিন্তু একটি মামলার পরবর্তী তারিখ জানতে এখনো আদালতের রেজিস্টার খাতা ঘাঁটতে হয় আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের। প্রযুক্তির এই যুগেও দেশের বিচার বিভাগ রয়ে গেছে অনেকটাই সনাতনী ব্যবস্থায়।

উচ্চ আদালতে কিছু ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার থাকলেও অধস্তন আদালত পরিচালিত হচ্ছে এখনো সেকেলে নিয়মেই। এতে বিপুল সংখ্যক বিচারপ্রার্থীর দ্রুত ও সহজে বিচার পেতে তৈরি হচ্ছে নানা প্রতিবন্ধকতা। মামলা ও বিচার সংক্রান্ত তথ্যের ক্ষেত্রে নির্ভর করতে হচ্ছে একেবারেই পুরনো পদ্ধতির ওপর।

তথ্যের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে দিনের পর দিন দৌঁড়াতে হচ্ছে। এতে নষ্ট হচ্ছে কর্মঘণ্টা, বাড়ছে হয়রানি ও তৈরি হচ্ছে দুর্নীতির পথ। বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় ডিজিটাইজেশনের উদ্যোগ যে একেবারেই নেওয়া হয়নি, তা নয়। ইতোমধ্যে বিচার কাঠামোতে প্রযুক্তির ব্যবহার সংক্রান্ত কিছু নতুন আইন প্রণয়ন এবং পুরাতন আইনে পরিবর্তন আনা হয়েছে। যার মধ্যে কোভিডের (করোনা ভাইরাস) সময় তৈরি ‘আদালত কর্তৃক তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার আইন-২০২০’ অন্যতম।

এই আইনে মামলার বিচার, বিচারিক অনুসন্ধান, দরখাস্ত-আপিল শুনানি, সাক্ষ্যগ্রহণ, যুক্তিতর্ক গ্রহণ এবং আদেশ বা রায় প্রদানকালে ভার্চুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষমতা আদালতকে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ বিচারিক প্রক্রিয়ার সব পর্যায়ে আদালত তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে। কোভিডকালে এই আইনের আওতায় ভার্চুয়াল আদালতের মাধ্যমে কিছু জরুরি কার্যক্রমও পরিচালনা করা হয়।

এর বাইরে দেওয়ানি কার্যবিধি সংশোধনের মাধ্যমে দেওয়ানি মামলা ফাইলিংয়ের সময় মোবাইল নম্বর ও ইমেইল অ্যাড্রেস দেওয়ার বিধান যুক্ত করা হয়। যাতে হোয়াটসঅ্যাপ বা ইমেইলে সমন জারি করা যায়। ডিজিটাল ডিভাইসে মোবাইল, হোয়াটসঅ্যাপ ও ই-মেইলের মাধ্যমে সমন জারির বিধান আনা হয়।

২০২২ সালে সাক্ষ্য আইন সংশোধন করে ডিজিটাল বা ইলেকট্রনিক রেকর্ড, যেমন- অডিও, ভিডিও, ডিজিটাল স্বাক্ষর এবং ফরেনসিক বা ডিএনএ প্রমাণের আইনি বৈধতা ও গ্রহণযোগ্যতা দেওয়া হয়েছে। ফলাও করে উদ্বোধন করা হয়েছে ই-পারিবারিক আদালত ব্যবস্থা। পরীক্ষামূলকভাবে কোথাও কোথাও ই-বেইলবন্ড চালু করা হয়।

আইনি কাঠামো তৈরির পাশাপাশি পদ্ধতিগত উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে অনেকবার। ২০১২ সালে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) সহায়তায় দুই বছর মেয়াদি জুডিশিয়াল স্ট্রেংথেনিং (জাস্ট) প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। ই-জুডিশিয়ারি প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে পরবর্তী সময় সুপ্রিম কোর্ট ২০১৭ থেকে ২০২২ সালের জন্য একটি কৌশলগত পরিকল্পনা গ্রহণ করে। এরই ধারাবাহিকতায় নিম্ন আদালতে মামলার তারিখ অনলাইনে লিপিবদ্ধ করতে ই-কজলিস্ট, আমার আদালত ও জুডিসিয়াল মনিটরিং ড্যাশবোর্ড নামে অ্যাপও চালু করা হয়। এ সংক্রান্ত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে কিছুদিন মামলার কার্যতালিকার আপডেট দেওয়া হতো।

তবে সেই সেবা চালু ছিল খুব অল্প সময়ের জন্য। কারণ এই সেবা দেওয়ার জন্য কোনো দক্ষ জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি। বর্তমানে কজলিস্ট সংক্রান্ত ওয়েবসাইটটি চালু থাকলেও এখানে মামলার কোনো আপডেট তথ্য পাওয়া যায় না।

তাছাড়া বর্তমান ব্যবস্থায় একটি মামলা যখন আমলি আদালত থেকে বিচারিক আদালতে বদলি হয় বা অন্য কোনো কারণে আদালত বদলি হয়, তখন সেই মামলার তথ্য প্রাপ্তিতে পোহাতে হয় বিড়ম্বনা। বিশেষ করে ঢাকার অধস্তন আদালতে বিপুল সংখ্যক মামলা থাকার কারণে আইনজীবীদের এসব তথ্যের জন্য দিনের পর দিন রেজিস্টার খাতা দেখার জন্য দৌড়াতে হয়। এতে বিপুল সংখ্যক কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়। এমনকি সঠিক সময়ে তথ্য না পাওয়ার কারণে বিচারপ্রার্থীরা অনেক সময় ক্ষতিগ্রস্ত হন।

বিচার ব্যবস্থা আধুনিকায়ন ও প্রযুক্তির ব্যবহারে ইতোপূর্বে যেসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তার প্রায় সবই বিচ্ছিন্ন ও বিক্ষিপ্তভাবে নেওয়া হয়। সমন্বিতভাবে পুরো বিচার ব্যবস্থাকে প্রযুক্তির আওতায় আনার চেষ্টা হয়নি। একটি বিচার ব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহারে যে ধরনের কারিগরি সহায়তা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন দরকার, তা তৈরি হয়নি। তাই অনেক ক্ষেত্রে আইন হলেও তা ব্যবহার না হয়ে কাগজেই রয়ে গেছে। পুরো বিচার ব্যবস্থাকে ভার্চ্যুয়াল পদ্ধতিতে নিয়ে আসতে প্রয়োজন প্রযুক্তিগত সক্ষমতা।

তবে সাধারণভাবে পদ্ধতিগত কিছু ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লে বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীদের কষ্ট অনেকাংশে লাঘব হতো। যার মধ্যে মামলার প্রাথমিক তথ্য, নথি ব্যবস্থাপনা, দৈনন্দিন কার্যতালিকা ব্যবস্থাপনা, বদলি মামলার রেজিস্ট্রার ব্যবস্থাপনার মতো কাজগুলো খুব সহজেই ই-ম্যানেজমেন্টের আওতায় আনা যায়।

অনলাইনে একটি শক্তিশালী প্লাটফর্ম ডেভেলপ করে এই সমস্ত সেবাকে একই ছাতার নিচে নিয়ে আসা সম্ভব। একটি মামলা দায়েরের সময় মামলার ধরন, তার বিষয়বস্তুর সংক্ষিপ্ত বিবরণ, উভয়পক্ষের নাম ঠিকানা ও আইনজীবীর তথ্য সংবলিত সংক্ষিপ্ত একটি বিবরণী ওই প্লাটফর্মে দেওয়া যেতে পারে। যাতে মামলা নম্বর জানা না থাকলেও পক্ষগুলোর তথ্য দিয়েই মামলার একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণী অনলাইন থেকে সংগ্রহ করা যায়। এরপর সেই মামলার পরবর্তী তারিখ সমূহ ও বর্তমান অবস্থান উল্লেখ থাকবে। যার মাধ্যমে বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীদের পক্ষে প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে সহজেই মামলার প্রাথমিক সংক্ষিপ্ত সংগ্রহ করা সম্ভব হয়। শক্তিশালী একটি ই-প্লাটফর্ম তৈরি, কিছু দক্ষ জনবল নিয়োগ ও বর্তমান জনবলকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সহজে এই কাজটুকু করা যায়।

মামলা ব্যবস্থাপনায় নিজস্ব একটি পদ্ধতি অনুসরণ করছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আতিকুর রহমান। এ সংক্রান্ত একটি ওয়েবসাইট ডেভেলপ করে নিজের মামলা সমূহের তথ্য, পরবর্তী তারিখ, সর্বশেষ অবস্থা ইত্যাদি যুক্ত করেছেন। এই পদ্ধতিতে একজন বিচারপ্রার্থীকে এসএমএসের মাধ্যমে মামলার শুনানির তারিখ জানিয়ে দেওয়ার মতো সেবা দিচ্ছেন তিনি। তাছাড়া ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে ক্লায়েন্টরা নিজেরাও দেখতে পারছেন সবশেষ অবস্থা।

আইনজীবী আতিকুর রহমান বলেন, ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিচারপ্রার্থীদের অনলাইন সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা সীমাবদ্ধতা থাকে। কারণ তথ্যসমূহ সনাতনী পদ্ধতিতে সংগ্রহ করতে হয়। তারপর সেসব তথ্য নিজস্ব ওয়েবসাইটে ইনপুট দেওয়ার পর বিচারপ্রার্থী এই সেবা পান। কিন্তু সরকার যদি ই-কজলিস্ট ও ই-বদলি রেজিস্টার চালু রাখতো, তবে সেই ওয়েবসাইট থেকে আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীরা সরাসরি সেবা পেতো।

তিনি আরও বলেন, বিচার ব্যবস্থা ডিজিটাইজেশন করা খুব বেশি কঠিন কাজ নয়। কিছু সংখ্যক দক্ষ জনবল নিয়োগ এবং বর্তমান জনবলকে প্রশিক্ষণ দিয়েই ই-কজলিস্ট ও ই-রেজিস্টার অনলাইনে চালানো সম্ভব। সেক্ষেত্রে স্টাফদের কাজও অনেকাংশে কমে যাবে। খাতা নিয়ে আইনজীবী বা বিচারপ্রার্থীদের দৌড়াদৌড়িও লাঘব হবে।

এ বিষয়ে ঢাকার মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, বিচার ব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। তবে যেভাবে কাজটা হচ্ছে সেখানে আরও গতি বাড়ানো দরকার।

বিচারব্যবস্থা ডিজিটাইজেশনের জন্য কিছু উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। সম্প্রতি জাতীয় সংসদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিচার ব্যবস্থাকে পূর্ণাঙ্গ ডিজিটালে রূপান্তর লক্ষ্যে ‘ই-জুডিসিয়ারি’ শীর্ষক প্রকল্প পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। কমিশনের পর্যবেক্ষণের আলোকে বর্তমানে ডিপিপি পুনর্গঠনের কাজ চলমান রয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে মামলা দায়ের, কেস ট্র্যাকিং, কজলিস্ট ব্যবস্থাপনা ও নথি সংরক্ষণসহ বিচার সংক্রান্ত সমগ্র কার্যক্রম ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে, যা বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষের ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করবে। সূত্র : বাংলানিউজ

হাসিনার আমলে একটি অমানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল: চিফ প্রসিকিউটর

শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে একটি অমানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ

গোপন বন্দিশালায় নির্যাতন করা হয় তারেক রহমানকে: চিফ প্রসিকিউটর

জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টারে (জেআইসি) আটকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকেও নির্যাতন করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক

ডিজিএফআইয়ের গোপন বন্দিশালা পরিদর্শনে যাচ্ছেন ট্রাইব্যুনালের বিচারকরা

র‍্যাবের গোপন বন্দিশালা পরিদর্শনের পর এবার ডিজিএফআই সদর দপ্তরে থাকা জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টারে (জেআইসি) যাচ্ছেন

তনু হত্যা: হাফিজুরের জামিন বাতিল, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ

কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় গ্রেফতার অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হাফিজুর রহমানের হাইকোর্টের
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মিছিলে মিছিলে জনস্রোত, কানায় কানায় পূর্ণ প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশস্থল

বিল পরিশোধ ও রিচার্জে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে মিলবে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদমুক্ত ঋণ

দিল্লিতে হাসিনা বিতর্ক: বাংলাদেশ-ভারত টানাপোড়েন

প্রতিযোগিতার মাঠেই যোগ্যতার পরীক্ষা

টুকরা করে ১১টি পলিথিনে ভরা হয়েছে নারীর লাশ, এখনো উদ্ধার হয়নি মাথা ও পা

যাত্রাবাড়ীতে বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে গ্রেপ্তার ২১

সোমবার সকাল ১০টায় এসএসসি ও সমমানের ফল উদ্বোধন করবেন শিক্ষামন্ত্রী

নাফ নদী থেকে ৩ বাংলাদেশি জেলেকে নিয়ে গেল আরাকান আর্মি

হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে যুক্তরাষ্ট্রকে ৬ শর্ত দিলো ইরান

প্রযুক্তির যুগে সনাতনী ব্যবস্থায় পড়ে আছে বিচার বিভাগ

কুলাউড়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশী নিহত

৯ আগস্ট ঘটে যাওয়া নানান ঘটনা 

জিডিপিতে পর্যটনের অবদান ৬-৭ শতাংশে নিতে চাই: আফরোজা খানম

হাসিনার আমলে একটি অমানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল: চিফ প্রসিকিউটর

সিলেটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত প্রত্যেকের পরিবার পাবে ৫ লাখ টাকা

মা মাছ রক্ষায় হাওরে হচ্ছে মিঠা পানির মাছের অভয়াশ্রম: প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

বাংলাদেশিকে বিএসএফ নিয়ে যাওয়ায় ভারতীয়কে ধরে আনলো গ্রামবাসী

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে শিল্পকারখানা, ঋণের সুদ মওকুফ চায় চট্টগ্রাম চেম্বার

ঢাকা মেট্রোর সঙ্গে নতুন পার্টনারশিপে শক্তিশালীভাবে ফিরছে জোবাইক

মক্কায় কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতা শুরু