
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.) বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মূল শক্তি হবে সততা, দক্ষতা ও পেশাদারত্ব। নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের শতভাগ সততা, দক্ষতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। সরকারি কর্মচারীরা কোনও রাজনৈতিক দলের সদস্য নন; তারা জনগণের ট্যাক্সের টাকায় নিয়োজিত রাষ্ট্রের বেতনভুক্ত কর্মচারী। তাই কোনও রাজনৈতিক দলের প্রতি ন্যূনতম পক্ষপাতিত্ব বা পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ সহ্য করা হবে না।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকালে রাজধানীর রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আইজিপি বাহারুল, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলী এবং ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শরফুদ্দিন আহমেদ। স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, জাতীয় নির্বাচনে সবাইকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। ব্যক্তি, দল কিংবা কোনও রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে জড়ানো যাবে না। আইন, বিধি, জননিরাপত্তা, জনসেবা ও জনকল্যাণকে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, কারও বিরুদ্ধে কোনও প্রার্থীর পক্ষে কাজ করা বা দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নের প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এক্ষেত্রে সরকার বিন্দুমাত্র শৈথিল্য প্রদর্শন করবে না। নির্বাচনে প্রার্থী বা তাদের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে কোনও প্রকার অর্থ বা সুবিধা গ্রহণ থেকে পুরোপুরি বিরত থাকতে হবে; এমনকি কোনও ধরনের খাবারও গ্রহণ করা যাবে না।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের জনগণের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে। নির্বাচন অস্বচ্ছ হলে জাতির জন্য অন্ধকার ভবিষ্যৎ নেমে আসতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব, আচরণ ও ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সবার সহযোগিতায় এমন একটি মানদণ্ড স্থাপন করা হবে, যা দেশ-বিদেশে প্রশংসিত হবে।
নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কাউকে আইন ভঙ্গ করতে দেওয়া যাবে না। বেআইনি কাজ করলে তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। আইন প্রয়োগ ও নির্বাচনি আচরণবিধি প্রতিপালনে ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’, ‘সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫’, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা পরিপত্র এবং নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুসরণ করতে হবে। কথায়, কাজে, আচরণে ও বাস্তবায়নে নিরপেক্ষতা প্রদর্শন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনি আচরণবিধি অনুসরণের জন্য অধীনস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত নির্দেশনা দিতে হবে। প্রয়োজনে জেলা ও মেট্রোপলিটন পর্যায়ে প্রতিদিন অফিসের শুরু বা শেষে নির্দিষ্ট সময়ে নির্বাচনি প্রস্তুতি, সমস্যা, চলমান কার্যক্রম, করণীয়-বর্জনীয় এবং আচরণবিধি নিয়ে সভা আয়োজন করা যেতে পারে।
মতবিনিময় সভায় ঢাকা বিভাগের সব জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, আঞ্চলিক, জেলা ও উপজেলা নির্বাচন অফিসার, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার, যুগ্ম পুলিশ কমিশনার, উপ-পুলিশ কমিশনার ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা অংশ নেন।
আমার বার্তা/এমই

