ই-পেপার বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩

বাবা জীবনের প্রথম নায়ক ও এক বটবৃক্ষ

জামিল হোসেন
২১ জুন ২০২৬, ১২:১২
আপডেট  : ২১ জুন ২০২৬, ১৩:২৪

মানুষের জীবনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকে। মা, বাবা, ভাই-বোন, বন্ধু—প্রত্যেকেই আমাদের জীবনের একটি বিশেষ অংশ। তবে এসব সম্পর্কের মধ্যে বাবার স্থান অনেক আলাদা। একজন বাবা শুধু পরিবারের একজন সদস্য নন, তিনি পরিবারের শক্তি, সাহস এবং ভরসার প্রতীক। সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার জন্য একজন বাবা সারা জীবন পরিশ্রম করেন। নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের কথা না ভেবে তিনি পরিবারের দায়িত্ব পালন করে যান। তাই একজন বাবার অবদান কোনোভাবেই ভাষায় পুরোপুরি প্রকাশ করা সম্ভব নয়।

একটি শিশু পৃথিবীতে আসার পর থেকে বাবার ভালোবাসা ও যত্ন পেতে শুরু করে। ছোটবেলায় বাবা সন্তানের হাত ধরে হাঁটতে শেখান, নতুন কিছু জানতে উৎসাহ দেন এবং জীবনের প্রথম দিকের অনেক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেন। বাবা শুধু সন্তানের প্রয়োজন মেটান না, তাকে ভালো মানুষ হিসেবেও গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। সত্য কথা বলা, অন্যকে সম্মান করা, দায়িত্বশীল হওয়া এবং পরিশ্রমের মূল্য বোঝা—এসব শিক্ষার বড় একটি অংশ আমরা বাবার কাছ থেকেই পাই।

বাবার ভালোবাসা অনেক সময় মায়ের ভালোবাসার মতো প্রকাশ পায় না। মা সহজেই তার আবেগ প্রকাশ করেন, কিন্তু বাবা সাধারণত নিজের অনুভূতিগুলো লুকিয়ে রাখেন। তিনি হয়তো প্রতিদিন সন্তানের মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করেন না বা বারবার ভালোবাসার কথা বলেন না। কিন্তু সন্তানের জন্য তার চিন্তা, দায়িত্ববোধ এবং ত্যাগের মধ্যেই সেই ভালোবাসা প্রকাশ পায়। একজন বাবা সারাদিন পরিশ্রম করে ক্লান্ত শরীরে বাড়ি ফিরলেও পরিবারের মুখে হাসি দেখলে তার সব কষ্ট ভুলে যান।

সন্তানের ছোট ছোট ইচ্ছা পূরণ করার জন্য বাবারা অনেক সময় নিজের প্রয়োজনগুলোও উপেক্ষা করেন। হয়তো তিনি নিজের জন্য নতুন কিছু কেনেন না, কিন্তু সন্তানের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে দিতে কখনো পিছপা হন না। পরিবারের সুখের জন্য তিনি নিজের অনেক স্বপ্ন ও ইচ্ছা ত্যাগ করেন। এসব ত্যাগের কথা অনেক সময় কেউ জানতেও পারে না। একজন বাবার জীবন আসলে নীরব দায়িত্ব এবং আত্মত্যাগের এক অনন্য উদাহরণ।

জীবনের কঠিন সময়গুলোতে বাবাই হয়ে ওঠেন সবচেয়ে বড় সাহসের উৎস। যখন আমরা কোনো সমস্যায় পড়ি বা ব্যর্থতার মুখোমুখি হই, তখন বাবার উপদেশ ও সমর্থন আমাদের নতুনভাবে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি দেয়। তিনি শেখান যে জীবনে সব সময় সফলতা আসবে না, কিন্তু চেষ্টা কখনো বন্ধ করা যাবে না। ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আবার সামনে এগিয়ে যেতে হবে। এই শিক্ষাগুলো একজন মানুষের ভবিষ্যৎ জীবন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

একজন সন্তানের সাফল্যে সবচেয়ে বেশি খুশি হন তার বাবা-মা। বিশেষ করে বাবা অনেক সময় নিজের আনন্দ প্রকাশ না করলেও ভেতরে ভেতরে গর্ব অনুভব করেন। সন্তানের ভালো ফলাফল, চাকরি পাওয়া বা জীবনের কোনো অর্জন বাবার জন্য এক বিশেষ আনন্দের মুহূর্ত। তিনি মনে করেন, তার দীর্ঘদিনের পরিশ্রম সার্থক হয়েছে। সন্তানের উন্নতি এবং সুখই একজন বাবার সবচেয়ে বড় অর্জন।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষ বয়সের ভারে পরিবর্তিত হয়। একসময় যে বাবা পরিবারের সব দায়িত্ব একা সামলাতেন, তিনিও ধীরে ধীরে বৃদ্ধ হয়ে যান। তার শরীরের শক্তি কমে আসে, আগের মতো কাজ করার সামর্থ্য থাকে না। এই সময় একজন বাবার সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয় পরিবারের ভালোবাসা, সম্মান এবং যত্ন। ছোটবেলায় তিনি যেমন সন্তানকে আগলে রেখেছেন, তেমনি বার্ধক্যে সন্তানের দায়িত্ব হলো তার পাশে থাকা এবং তাকে সম্মান দেওয়া।

বর্তমান সময়ে মানুষ অনেক বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। কাজ, পড়াশোনা এবং বিভিন্ন দায়িত্বের কারণে অনেকেই পরিবারের সঙ্গে যথেষ্ট সময় কাটাতে পারেন না। কিন্তু যত ব্যস্ততাই থাকুক না কেন, আমাদের উচিত বাবার খোঁজ নেওয়া, তার সঙ্গে কিছু সময় কাটানো এবং তার অনুভূতির মূল্য দেওয়া। কারণ একজন বাবা সবসময় সন্তানের পাশে থাকলেও, একসময় হয়তো সেই সুযোগ আর থাকবে না। তখন শুধু স্মৃতিই থেকে যাবে।

আমাদের জীবনে বাবার অবদান কখনোই পুরোপুরি শোধ করা সম্ভব নয়। তবে আমরা তাকে ভালোবাসা, সম্মান এবং যত্ন দিয়ে তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারি। বাবার উপদেশ, আদর্শ এবং ত্যাগ আমাদের জীবনের পথচলায় সবসময় অনুপ্রেরণা জোগায়। তিনি শুধু একজন অভিভাবক নন, তিনি সন্তানের প্রথম শিক্ষক, প্রথম নায়ক এবং সবচেয়ে বড় আশ্রয়স্থল।

পরিশেষে বলা যায়, একজন বাবা পরিবারের ভিত্তি এবং সন্তানের জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি। তার ভালোবাসা, ত্যাগ এবং পরিশ্রমের কারণেই একটি পরিবার সুন্দরভাবে এগিয়ে যেতে পারে। তাই আমাদের সবার উচিত বাবার মূল্য বুঝতে শেখা, তাকে সম্মান করা এবং যতদিন তিনি আমাদের মাঝে আছেন, ততদিন তার পাশে থাকা। একজন বাবার ছায়া সন্তানের জীবনের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ।

লেখক : জামিল হোসেন, অনলাইন নিউজ এডিটর, দৈনিক আমার বার্তা, ঢাকা।

৩৬ জুলাই : জাতির মুক্তির দিন

ক্যালেন্ডারেরও সীমাবদ্ধতা আছে। সে মাস গুনতে জানে, দিন গুনতে জানে, কিন্তু মানুষের জেগে ওঠার হিসাব

মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকারঃ রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই

২০২১ সালে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনী ক্ষমতা গ্রহণের  পর দেশটিতে গৃহযুদ্ধ  ছড়িয়ে

অনাবাসযোগ্য ঢাকার আর্তনাদ: দায় কার, মুক্তির পথ কোথায়?

"যে শহর যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়নি, সেই শহরই যদি মানুষের বসবাসের জন্য বিশ্বের অন্যতম কঠিন

নারীর ক্ষমতায়নে ফ্যামিলি কার্ড

গৌরনদী উপজেলার ছোট্ট একটি গ্রামের নাম বাটাজোর। নদীর কাছাকাছি মাটির ঘরে থাকত পারুল আখতার। তার
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ডিএমপির ২৪ ঘণ্টার অভিযানে ৪১৮ জন গ্রেপ্তার, উদ্ধার বিদেশি পিস্তল-গুলি

গভীর সমুদ্রে ইঞ্জিন বিকল, ১৮ জেলেসহ ফিশিং বোট উদ্ধার করলো কোস্ট গার্ড

উত্তেজনার মধ্যে ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূতের ভিসা বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্র

লিভারপুল অধ্যায় শেষে এবার তুরস্কের ক্লাবে যাচ্ছেন সালাহ

সুনামগঞ্জে হঠাৎ গ্যাস সংকট, রান্না বন্ধ, সিএনজি পাম্পে হাহাকার

পথ হারালে এই জাদুঘরে এসে পথ খুঁজে নেবো: ড. ইউনূস

শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধস, স্কুল বন্ধ ঘোষণা

ইরান যুদ্ধ যত দীর্ঘ তত লাভ তেল কোম্পানিগুলোর, কে কত আয় করল?

ছুটির আনন্দে ঘরমুখী মানুষের ঢল, গাজীপুরে মহাসড়কে তীব্র চাপ

মানব পাচারকারীদের মোকাবিলায় কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

ন্যায়বিচার-গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সাক্ষী জুলাই: ড. ইউনূস

ভারী বৃষ্টি-উজানের ঢলে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপরে

৩৬ জুলাই : জাতির মুক্তির দিন

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

৫ আগস্ট ঘটে যাওয়া নানান ঘটনা

শেখ হাসিনার বক্তব্য দেওয়ার প্রসঙ্গে অবস্থান স্পষ্ট করল ভারত

সাব্বিরকে নিয়েই মালয়েশিয়ার বিপক্ষে দল ঘোষণা বাংলাদেশের

মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকারঃ রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই

টেকনাফের ৫ কোটি টাকা মূল্যের ১ কেজি ক্রিস্টাল মেথ জব্দ

বাগেরহাটের মোংলায় উপকূলীয় এলাকায় পানি বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্ট স্থাপন