
কাঠমান্ডুর বাংলাদেশ দূতাবাসে শনিবার (২৯ নভেম্বর) ‘বাংলাদেশ ফিশ ফেস্টিভ্যাল ২০২৫’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার ছিলেন নেপালের ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রসচিব কৃষ্ণ প্রসাদ ধাকাল।
নেপালের স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় নেপাল ও বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে ফিশ ফেস্টিভ্যাল শুরু হয় এবং এরপর বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমান স্বাগত বক্তব্য দেন।
নেপালের ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রসচিব এ উদ্যোগকে একটি প্রশংসনীয় ও উদ্ভাবনী আয়োজন হিসেবে উল্লেখ করেন এবং তিনি বলেন, নেপাল-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা এখন আরও গভীরতার দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
এ সময় তিনি মানুষে মানুষে যোগাযোগ, বাণিজ্য ও ট্রানজিট, জ্বালানি ও বিনিয়োগে দুই দেশের সহযোগিতার বিষয়টি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে মৎস্যসম্পদ, একোয়াকালচার এবং খাদ্য নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনাও তার বক্তব্যে উঠে আসে।
রাষ্ট্রদূত শফিকুর রহমান বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ও ঐতিহ্যবাহী মৎস্যখাতের সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরেন এবং এ উৎসবকে বাংলাদেশের নদীমাতৃক ঐতিহ্যের প্রতিফলন বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, মাছ আমাদের সংস্কৃতি, জীবিকা, সামাজিক কাঠামো এবং জাতীয় পরিচয়ের প্রতীক।
তিনি উল্লেখ করেন, অনন্য ভূ-প্রকৃতি ও ভৌগোলিক গঠন ও হাজারো নদী বাংলাদেশকে মিঠা পানি ও সামুদ্রিক মাছের বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ করেছে। বাংলাদেশের খাবার/মাছের স্বাদ, সতেজতা এবং বৈচিত্র্যের জন্য আন্তর্জাতিক সুনামের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের দ্রুত বর্ধনশীল মৎস্যখাত বর্তমানে মিঠাপানির (উন্মুক্ত জলাশয়) মাছ, একোয়াকালচার, সামুদ্রিক মাছ এবং চিংড়ি উৎপাদনে বিশেষ সাফল্য লাভ করেছে।
তিনি উল্লেখ করেন, এ উৎসব কেবল সাংস্কৃতিক উদযাপন নয় বরং আঞ্চলিক সহযোগিতা গভীরতর করা এবং ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণের সুযোগও বটে। তিনি হিমালয় অঞ্চলে বাংলাদেশি মৎস্যসম্পদের এই প্রদর্শনী আয়োজন করতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ‘মাছে ভাতে বাঙালি’ ও নেপালি ডাল-ভাতকে একত্রে উপস্থাপন করে ‘মাছ-ডাল-ভাত’ স্লোগান দ্বারা নেপাল-বাংলাদেশ বন্ধুত্বকে চিত্রায়িত করেন।
তিনি আরও বলেন যে, এই উৎসব বাংলাদেশ ও নেপালের উজ্জ্বল ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির মিল ও সৌহার্দ্যের এক যৌথ স্বীকৃতি।
মৎস্য উৎসবে বাংলাদেশের নানা জাতের মাছের অনন্য উপস্থাপন ছিল বিশেষ আকর্ষণ। নেপালের ক্রমবর্ধমান সামুদ্রিক খাদ্যের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের মিঠা পানির ও সামুদ্রিক মাছের বাজার সম্ভাবনার অন্বেষণও ছিল এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য। এ উৎসব নেপালি আমদানিকারক ও হসপিটালিটি খাত এবং বাংলাদেশের মৎস্য রপ্তানিকারকদের মধ্যে ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও অনুঘটকের ভূমিকা পালন করতে পারে।
অনুষ্ঠানে ঐতিহ্যবাহী ও আধুনিক রন্ধনশৈলীর প্রয়োগে প্রস্তুতকৃত বাংলাদেশের মিঠাপানি ও সামুদ্রিক সুস্বাদু খাবারের বাছাই করা পদ, আগত অতিথিদের জন্য পরিবেশন করা হয়।
অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ছিল বাংলাদেশি শেফদের প্রস্তুতকৃত স্মোকড ইলিশ (কাঁটা ছাড়া) এবং সরষে ইলিশ। অতিথিরা আরও উপভোগ করেন মজাদার রুই ও কাতলা কারি, গ্রিলড লবস্টার এবং গ্রিলড রেড স্ন্যাপার। লাইভ কাউন্টারগুলোর মধ্যে ফ্রাইড সিলভার পমফ্রেট (রুপচাঁদা) এবং শ্রিম্প (চিংড়ি) টেম্পুরা বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করে।
পরিবেশনায় আরও ছিল আইড় মাছ এবং বোয়াল মাছের কারি। সম্পূর্ণ গ্রিলড কোরাল এবং গলদা চিংড়ির কারিও পরিবেশনার বৈচিত্র্য বাড়িয়ে তোলে, যা বাংলাদেশের সমৃদ্ধ মৎস্য ঐতিহ্য ও রন্ধনশৈলীকে প্রতিফলিত করে।
আমার বার্তা/এমই

