
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়নে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ ব্যবহার করে ব্যক্তিগত রাস্তা নির্মাণের অভিযোগে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগের তীর উপজেলা বিএনপির এক নেতার দিকে, যিনি একই সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী।
অভিযোগ অনুযায়ী, বাঁশতৈল ইউনিয়নের কটামারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠের পূর্বাংশ দখল করে ইট সলিংয়ের রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, এই রাস্তা ব্যবহার করে অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজ বাড়িতে যাতায়াতের সুবিধা নিচ্ছেন। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের একটি টিনশেড ঘরও দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে দখলে রাখার অভিযোগ উঠেছে।
এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিদ্যালয়ের খেলাধুলা ও বিভিন্ন শিক্ষামূলক কার্যক্রমে ব্যবহৃত মাঠ সংকুচিত হয়ে পড়ছে। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, সরকারি সম্পত্তি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহৃত হওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ এবং দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ চান।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের মাঠসংলগ্ন এলাকায় রাস্তা নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। নির্মাণকাজ ঘিরে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা তীব্র আকার ধারণ করেছে।
তবে এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত বিএনপি নেতা এস এম রুবেল পারভেজ। তিনি বলেন, “আমি সম্পূর্ণ আমার নিজস্ব জমির ওপর দিয়েই রাস্তা নির্মাণ করছি। বিদ্যালয়ের মাঠ কিংবা কোনো সরকারি জমি আমি দখল করিনি। উদ্দেশ্যমূলকভাবে আমাকে জড়িয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।”
এ বিষয়ে কটামারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লক্ষ্মী রানী দাস জানান, বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে রয়েছে। তিনি বলেন, “ইউএনও মহোদয় বিষয়টি জানেন। এ নিয়ে আমি মানসিকভাবে খুব চাপে আছি, তাই এই মুহূর্তে কোনো মন্তব্য করতে পারছি না।”
মির্জাপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। বর্তমানে আমি শারীরিকভাবে অসুস্থ রয়েছি। নির্বাচন শেষে জমির পরিমাপ ও যাচাই করা হবে।”
এদিকে উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুরাইয়া ইয়াসমিন বলেন, “অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অবস্থা নির্ধারণ করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এ ঘটনায় এলাকাবাসী দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

