
যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে তিব্বতের বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা দালাই লামার কখনও সাক্ষাৎ হয়নি বলে দাবি করেছে তার কার্যালয়। মার্কিন সরকারের সম্প্রতি প্রকাশ করা নথিপত্রে দালাই লামার নাম আসার খবর চীনা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর রোববার দালাই লামার কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে এই দাবি করা হয়েছে।
গত মাসে এপস্টেইন-সংশ্লিষ্ট নথির সর্বশেষ দফা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। এতে তদন্তের সঙ্গে পাওয়া ৩০ লাখের বেশি নথি, ছবি ও ভিডিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির অনুসন্ধানে দেখা গেছে, নথিগুলোতে দালাই লামার নাম ১৫০ বারের বেশি উল্লেখ আছে। তবে কোথাও তার সঙ্গে এপস্টেইনের সাক্ষাৎ বা যোগাযোগের কোনও তথ্য নেই। এপস্টেইন ফাইলসে কারও নাম থাকা মাত্রই সেই ব্যক্তির কোনও অনিয়মে জড়িত থাকার ইঙ্গিত দেয় না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে দালাই লামার কার্যালয় বলেছে, এপস্টেইন ফাইলস নিয়ে সাম্প্রতিক কিছু সংবাদ প্রতিবেদন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট দালাই লামার সঙ্গে জেফ্রি এপস্টেইনের যোগসূত্র তৈরি করার চেষ্টা করছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমরা দ্ব্যর্থহীনভাবে নিশ্চিত করছি, দালাই লামার সঙ্গে জেফ্রি এপস্টেইনের কখনও দেখা হয়নি এবং দালাই লামার পক্ষ থেকে কেউ এ ধরনের কোনও সাক্ষাৎ বা যোগাযোগের অনুমতিও পাননি।
চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারমাধ্যম চায়না গ্লোবাল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক (সিজিটিএন) বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে বলেছে, এপস্টেইন ফাইলসে দালাই লামার নাম অন্তত ১৬৯ বার এসেছে। প্রতিবেদনে একটি ই-মেইলের কথাও উল্লেখ করা হয়; যেখানে নাম গোপন রাখা এক ব্যক্তি এপস্টেইনকে জানান, দালাই লামার উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে, এমন একটি অনুষ্ঠানে যাওয়ার কথা তিনি ভাবছেন।
চীনা সৈন্যদের ১৯৫১ সালে তিব্বত দখলে নেওয়ার পর সেখানে শুরু হওয়া এক বিদ্রোহ দমন অভিযান থেকে বাঁচতে প্রাণভয়ে ২৩ বছর বয়সে তিব্বতের রাজধানী লাসা ছেড়ে পালিয়ে যান দালাই লামা। নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী দালাই লামান বর্তমান বয়স ৯০ বছর। বর্তমানে তিনি ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় শহর ধর্মশালায় নির্বাসিত জীবন যাপন করছেন এবং তিব্বতিদের জন্য অধিক স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। চীন এই আন্দোলনের নিন্দা জানিয়ে তাকে বিদ্রোহী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী বলে আখ্যা দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের প্রকাশিত এপস্টেইন ফাইলসে দালাই লামার সম্পর্কে ১৫৪টি নথি পাওয়া গেছে। তবে কোথাও তার সঙ্গে এপস্টেইনের সাক্ষাৎ কিংবা এমন কোনও ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
সিজিটিএনের উল্লেখ করা এবং এএফপির দেখা ওই ই-মেইল পাঠিয়েছিলেন এমন একজন ব্যক্তি এপস্টেইনকে লেখেন, প্রায় এক মাস আগে দ্বীপে যে অনুষ্ঠানের কথা তোমাকে বলেছিলাম, সেখানে দালাই লামা আসছেন, আর আমি তাকে দেখতে যেতে চাই। তবে আজ যদি তোমার সাহায্যের দরকার হয়, তাহলে আমি এই অনুষ্ঠানটি বাদ দিতে পারি।
পরে আরেকটি ই-মেইলে ওই ব্যক্তি লেখেন, এখন দালাই লামার সঙ্গে অনুষ্ঠানে যাচ্ছি। তবে ওই ই-মেইলগুলোতে কোথাও বলা হয়নি, তিনি সত্যিই দালাই লামার সঙ্গে দেখা করেছেন বা তাকে দেখেছেন। দালাই লামা বহু বছর ধরে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে আসছেন।
জেফ্রি এপস্টেইন ২০০৮ সালে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু ও কিশোরীদের যৌনতায় প্রলুব্ধ করার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন। ২০১৯ সালে যৌন পাচারের অভিযোগে কারাগারে থাকা অবস্থায় তিনি আত্মহত্যা করেন। যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত সর্বশেষ নথিতে এপস্টেইনের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে একাধিক উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে। এর মধ্যে কেউ কেউ পদত্যাগ করেছেন, কেউ সরকারি তদন্তের মুখে পড়েছেন, আবার কেউ জনসমক্ষে প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছেন। - সূত্র: এএফপি।
আমার বার্তা/এমই

