ই-পেপার সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩

টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রামের বহু এলাকা বিদ্যুৎহীন, ভোগান্তিতে পরীক্ষার্থীরা

আমার বার্তা অনলাইন:
০৯ জুলাই ২০২৬, ১১:২৩

টানা ভারী বৃষ্টিতে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। কোথাও টানা দুই দিন, আবার কোথাও তিন দিন ধরে বিদ্যুৎহীন রয়েছে অসংখ্য গ্রাম। এতে জনজীবনের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন চলমান এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্কের সমস্যার কারণে তারা পড়াশোনা, অনলাইনে প্রয়োজনীয় নোট সংগ্রহ এবং পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে হিমশিম খাচ্ছেন। বিশেষ করে চট্টগ্রামের ১৫ উপজেলার ৭১ হাজার ১১৬ জন পরীক্ষার্থী চরম বিপাকে পড়েছে।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত ২ জুলাই শুরু হওয়া ২০২৬ সালের এইচএসসি, এইচএসসি (বিএম/ভোকেশনাল) ও আলিম পরীক্ষায় চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবার মোট ৯৯ হাজার ৬৮৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। ১১৪টি কেন্দ্রে ২৮৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছেন।

এদিকে বৈরী আবহাওয়া ও বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন সব জেলার বুধবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামানের সই করা এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে পৃথক দুই আদেশে চট্টগ্রাম, রাঙামাটি ও কক্সবাজার জেলার বুধবারের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছিল।

যদিও বুধবারের পরীক্ষা স্থগিত হয়েছে, তবে পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী আগামী ১১ জুলাই তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রামের আনোয়ারা, চন্দনাইশ, বাঁশখালী, পটিয়া, বোয়ালখালী, সন্দ্বীপ, রাঙ্গুনিয়া, রাউজান ও ফটিকছড়িতে বৈদ্যুতিক খুঁটি ও তার ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া উত্তর চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ, রাঙ্গুনিয়া, ও ফটিকছড়ির, সাতকানিয়ার বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে পড়ায় ৩৩ কেভি প্রধান সঞ্চালন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা লাইন মেরামতের কাজ চালিয়ে গেলেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক করা সম্ভব হচ্ছে না।

পরীক্ষার মাঝে ভারী ও টানা বৃষ্টির কারণে দিনের পর দিন বিদ্যুৎ না থাকায় সমস্যা কথা জানতে কথা হয় একাধিক পরীক্ষার্থীর সঙ্গে।

পটিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী বেলাল হোসেন বলেন, টানা ভারী বৃষ্টির কারণে আমাদের এলাকায় গত দুই দিন ধরে বিদ্যুৎ নেই। বিদ্যুৎ না থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা পুরোপুরি ব্যাহত হচ্ছে। এরই মধ্যে একটি পরীক্ষা স্থগিত হয়েছে, সামনে আরও একটি পরীক্ষা রয়েছে। কিন্তু বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় অনলাইনে প্রয়োজনীয় নোট, ক্লাসের উপকরণ কিংবা পড়াশোনার অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করতে পারছি না। মোবাইল চার্জ দেওয়ারও সুযোগ নেই। ফলে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছি। দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি।

বাকলিয়া শহীদ নূর হোসেন ডা. মিলন মোজাম্মেল জেহাদ ডিগ্রি কলেজের ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থী মো. আরফাত বলেন, আমাদের ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা সামনে। কিন্তু সোমবার রাত থেকে বুধবার রাত পেরিয়ে গেলেও বিদ্যুৎ আসেনি। এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আমরা বিদ্যুৎহীন অবস্থায় দিন-রাত পার করছি। মোমবাতির আলোয় পড়াশোনা করতে খুব কষ্ট হচ্ছে। তবুও পরীক্ষার আগে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে। এইচএসসি পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বিদ্যুৎ বিভাগের ধীরগতির কারণে আমাদের শিক্ষাজীবনের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

ফটিকছড়ির এইচএসসি পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান বলেন, কয়েকদিন ধরে টানা বৃষ্টির কারণে আমাদের এলাকায় নিয়মিত বিদ্যুৎ থাকছে না। বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে এবং পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে খুবই কষ্ট হচ্ছে। আজও সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিদ্যুৎ ছিল না। সামনে পরীক্ষা থাকায় বিষয়টি আমাদের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে সাতকানিয়া উপজেলায় বুধবার সকাল থেকে পল্লী বিদ্যুৎ ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। টানা ভারী বর্ষণ, জলাবদ্ধতা ও বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় উপজেলার পৌরসভাসহ ১৭টি ইউনিয়নের জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। দিনের আলো ফুরানোর সঙ্গে সঙ্গে দুর্ভোগ আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন বাসিন্দারা।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় অধিকাংশ বাড়িতে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, পাওয়ার ব্যাংকসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক যন্ত্রের চার্জ শেষ হয়ে গেছে।

পল্লী বিদ্যুৎ ও পিডিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে অনেক স্থানে মেরামতকাজে বিঘ্ন ঘটছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ক্ষতিগ্রস্ত লাইন দ্রুত মেরামত করে পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা হবে। বিদ্যুৎকেন্দ্র, সাবস্টেশন ও বিতরণ লাইনের অবস্থা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং মাঠে একাধিক টেকনিক্যাল টিম কাজ করছে।

চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর জেনারেল ম্যানেজার নুর মোহাম্মদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, টানা ভারী বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন এলাকায় গাছ উপড়ে বিদ্যুতের লাইনের ওপর পড়ছে, কোথাও খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, আবার কোথাও তার ছিঁড়ে যাচ্ছে। এসব কারণে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পল্লী বিদ্যুতের প্রকৌশলী ও লাইনম্যানরা ঝুঁকি নিয়ে মাঠে কাজ করছেন। ক্ষতিগ্রস্ত লাইন দ্রুত মেরামত করে পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে বৈরী আবহাওয়া ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখতে হচ্ছে। কারণ বৃষ্টির সময় জলাবদ্ধতা, প্লাবন বা লাইনে ত্রুটি থাকলে বিদ্যুৎ চালু করলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় পানি জমে গেছে বা এখনও ভারী বৃষ্টি হচ্ছে, সেখানে নিরাপদ পরিবেশ না পাওয়া পর্যন্ত মেরামতকাজ ব্যাহত হচ্ছে।

নুর মোহাম্মদ আরও বলেন, আমাদের লক্ষ্য যত দ্রুত সম্ভব সব এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা। তবে কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই কাজ করতে হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে এলে ক্ষতিগ্রস্ত সব লাইন মেরামত করে পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে। তিনি গ্রাহকদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান এবং কোথাও বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পড়ে থাকতে দেখলে সেটি থেকে দূরে থেকে দ্রুত পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে জানাতে অনুরোধ করেন।

আমার বার্তা /জেএইচ

দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় ১০০ পরিবারের পাশে কোস্ট গার্ড

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। সোমবার

নিম-আমড়া গাছের চারা লাগিয়ে বৃক্ষরোপণ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

বরিশালের গৌরনদীতে নিম ও আমড়া গাছের চারা লাগিয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

ব্যানার-ফেস্টুন নয় প্রধানমন্ত্রীর সংবর্ধনায় ৪০ কি.মি. ‘মানবপ্রাচীর’

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো বরিশাল সফরে গেছেন তারেক রহমান। সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টার

কক্সবাজারের ৫১ পাহাড়ে ২২ হাজার অবৈধ বসতি, ঝুঁকিতে কয়েক লাখ মানুষ

কক্সবাজার শহর ও আশপাশের ৫১টি পাহাড়ে গড়ে উঠেছে প্রায় ২২ হাজার অবৈধ বসতি, যেখানে ঝুঁকি
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

দেশীয় বস্ত্র রপ্তানির বিপরীতে নগদ সহায়তা বাড়িয়ে ৫ শতাংশ নির্ধারণ

আগামী ৫ দিন কেমন থাকবে আবহাওয়া?

‘গাছ লাগালেই দায়িত্ব শেষ নয়, শিশুর মতো যত্ন নিতে হবে’

সিজারিয়ান সংস্কৃতি কমিয়ে স্বাভাবিক প্রসবে জোর দিচ্ছে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আগামী জুনের মধ্যে ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী

ফ্রান্স বনাম স্পেন : ৩৭ হাজার কোটি টাকার সেমিফাইনাল

বেলুচিস্তানে ‘অপারেশন শাবান’ শুরু পাকিস্তানের: ৬ দিনে ১০৯ জন নিহত

দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় ১০০ পরিবারের পাশে কোস্ট গার্ড

ব্যাংককের পানশালায় ভয়াবহ আগুন, অন্তত ২৭ জনের মৃত্যু

পানি পানের সঠিক নিয়ম জানা আছে তো?

ছবি কেটে দিলেই ধোঁকা খাচ্ছে মেটা

জুলাইয়ের প্রথম ১১ দিনে দেশে এলো ১১৫ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স

১৭ বছরে ঢাকায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বৃষ্টি, আরও পাঁচ দিন ভারি বর্ষণের আশঙ্কা

জুনের শেষ ৮ দিনে ইউরোপে প্রাণ গেল ১০ হাজারের বেশি মানুষের

জনগণের সমর্থন থাকলে কোনো বাধাই বিএনপিকে থামাতে পারবে না

ফিফা কোনো স্বাধীন সংস্থা নয়, রাজনৈতিক হাতিয়ার: ফিলিস্তিনি রাজনীতিবিদ

কুয়েতে মার্কিন বাহিনীর হিমার্স ক্ষেপণাস্ত্র লাঞ্চার ধ্বংসের দাবি ইরানের

নিম-আমড়া গাছের চারা লাগিয়ে বৃক্ষরোপণ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

কাফুর অনন্য রেকর্ডের সামনে এমবাপে: টানা তিন বিশ্বকাপ ফাইনালের হাতছানি

হরমুজে অচলাবস্থা, বিশ্ববাজারে লাফিয়ে বাড়ছে তেলের দাম