ই-পেপার রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪৩২

হজে গিয়ে শারীরিক ও মানসিক সুস্হ্যতায় কী করবেন

অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ:
০৯ মে ২০২৫, ২১:১৮

প্রতিবছরের মতো এবারও হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মুসল্লি পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে দেশ ছেড়ে যাচ্ছেন। হজযাত্রীদের বড় অংশই বয়স্ক। তাঁদের অনেকেরই আছে নানা ক্রনিক রোগ, যেমন উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদ্‌রোগ, হাঁপানি ইত্যাদি। হজে গিয়ে যেন তাঁরা সুস্থ থাকতে পারেন, সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি। প্রতিবছর হজে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মুসল্লি অসুস্থ হয়ে পড়েন, অনেকে মারাও যান।

সংক্রমণ

হজে লাখ লাখ মুসল্লির সমাগম ঘটে। তাই এখানে যেকোনো সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া সহজ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি হয় শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ। কারণ, এই জীবাণু বাতাসে ড্রপলেট আকারে ছড়ায়। বয়স্ক ও ডায়াবেটিসের রোগীর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম থাকে বলে সহজেই আক্রান্ত হতে পারেন। তাই ফ্লু, নিউমোনিয়া এড়াতে মুখে মাস্ক পরুন, বারবার হাত পরিষ্কার করুন। হাঁচি–কাশির আদবকেতা মেনে চলুন। সম্ভব হলে যাওয়ার আগে ফ্লু ও নিউমোনিয়ার টিকা দিয়ে নিন। আরেকটি জটিল সংক্রমণ হলো মেনিনজাইটিস বা মস্তিষ্কের পর্দার প্রদাহ, যা প্রাণঘাতী হতে পারে। এটিও ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে ছড়ায়। হজে যাওয়ার আগে মেনিনজাইটিসের টিকা নেওয়া জরুরি। যেকোনো জ্বর, কাশি, জ্বরের সঙ্গে ঘাড় শক্ত হওয়া, শরীরে র‌্যাশ দেখা দিলে দ্রুত মেডিকেল ক্যাম্পের চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। প্রস্রাবে সংক্রমণ হলে জ্বরের সঙ্গে প্রস্রাবে জ্বালা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক লাগবে।

ডায়রিয়া

বাইরের খাবার খেতে হয় বলে বদহজম বা ডায়রিয়া হতে পারে। এমন হলে মুখে খাওয়ার স্যালাইন খাবেন, বমি থাকলে শিরায় স্যালাইন নিতে হবে। ডায়রিয়া বা বমি হলে কী ওষুধ খাবেন, তা জেনে নিয়ে সঙ্গে বহন করুন। বাসি–পচা খাবার খাবেন না।

হজযাত্রীদের বড় অংশই বয়স্ক। হজে গিয়ে যেন তাঁরা সুস্থ থাকতে পারেন, সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি।

পানিশূন্যতা

সৌদি আরবে অনেক গরম, তাই পানিশূন্যতা হতে পারে যে কারও। প্রচুর পানি পান করতে হবে। যদি মাথা ব্যথা করে, চোখ বসে যায় ও প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যায়, তবে বুঝবেন ডিহাইড্রেশন হচ্ছে। পানির সঙ্গে অন্যান্য তরলও পান করবেন। অনেকে টয়লেটে যাওয়ার ভয়ে পানি কম খান, যা একেবারেই ঠিক নয়। হিট স্ট্রোক এড়াতে ছাতা বা হ্যাট ব্যবহার করবেন। ঢিলেঢালা কাপড় পরবেন।

দীর্ঘমেয়াদি রোগে সতর্কতা

যাঁদের হাঁপানি আছে, তাঁরা যথেষ্ট ইনহেলার ও ওষুধ সঙ্গে নেবেন। ডায়াবেটিসের রোগীরা থার্মোফ্লাস্কে ইনসুলিন নিতে পারেন। গ্লুকোমিটারে মাঝেমধ্যে রক্তে শর্করা পরীক্ষা করবেন ও সে অনুযায়ী মাত্রা ঠিক করবেন। সঠিক সময়ে খাবার গ্রহণ করতে চেষ্টা করবেন। উচ্চ রক্তচাপের রোগীরা রক্তচাপ মাপার যন্ত্র নিতে পারেন। অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার খেলে রক্তচাপ বাড়তে পারে।

পায়ের যত্ন

অনেক হাঁটতে হয় বলে পায়ে আঘাত, ঘা হতে পারে। সঠিক মাপের আরামদায়ক জুতা পরতে হবে। একাধিক জুতা সঙ্গে নেওয়া ভালো। খালি পায়ে হাঁটার জায়গায় মোজা পরে নেওয়া উচিত। বারবার অজু করার পর পায়ের আঙুলের ফাঁকগুলো মুছে নেবেন। পায়ে কোনো ক্ষত হলে অ্যান্টিবায়োটিক মলম লাগান বা ড্রেসিং করে নিন।

সর্বোপরি শারীরিক মানসিক প্রস্তুতির পাশাপাশি কিছু আধ্যাত্মিক প্রস্তুতিও দরকার রয়েছে। কেননা বার বার হয়তো যাবার সুযোগ হবে না। পরে এসে আফসোস করবেন যে আগে থেকেই আরো কিছু জেনে শুনে আসলাম না কেন! তাই আগে দিবি বুঝে শুনে যাওয়া উচিত। তাছাড়া সেখানে গিয়ে দুনিয়াবী কোন চিন্তা ভাবনা করা, একান্ত জরুরি ছাড়া ফোন, ফেইসবুকে পোস্ট ছবি তোলা ইত্যাদি কিছু ঠিক নয়। প্রতিটি ওয়াক্ত সময় প্রতিটি মুহূর্ত আল্লাহর সন্তুষ্টির লাভের চেষ্টায় নিয়োজিত থাকা উচিত, এবং প্রতিটি ফরজ ঠিক ভাবে মোয়াল্লেম থেকে জেনে নিন, আপনার হজ্জ -ওমরা কবুল করুক আমিন।

লেখক : ইমেরিটাস অধ্যাপক, মেডিসিনবিশেষজ্ঞ।

আমার বার্তা/অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ/এমই

হাদির ওপর হামলা, শান্তির পথে কাঁটা ছড়াচ্ছে কারা?

বহু প্রতীক্ষা ছিল। নতুন দিনের স্বপ্ন দেখছিল দেশ। নির্বাচন কমিশন ‘তফসিল’ ঘোষণা করল। নির্বাচনের ট্রেন

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব এবং বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট

জনগণের মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা একটি জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্রের অপরিহার্য দায়িত্ব। তবে, বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান

এনটিআরসিএ নামকরণের সার্থকতা যথেষ্ট যৌক্তিক

NTRCA এর পূর্নাঙ্গ রূপ N= Non, T= Trusted, R= Researches and, C= Corrupted,  A= Authority.

ভূমিকম্প কেন হয় এবং নরসিংদী এর কেন্দ্র কেন? এ নিয়ে কিছু কথা

ভূমিকম্প সৃষ্টি হয় ভূত্বকের গভীরে। ভূমিকম্প যেখানে সৃষ্টি হয়, তাকে বলা হয় ভূমিকম্পের কেন্দ্রবিন্দু। কেন্দ্রবিন্দু
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

হাদির ওপর হত্যাচেষ্টা দেশকে মেধাহীন করার ষড়যন্ত্র: আসিফ মাহমুদ

গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় হামাসের শীর্ষ কমান্ডার নিহত

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ আজ

হাদিকে গুলি করার ঘটনায় সন্দেহভাজন মাসুদের সব ব্যাংক হিসাব জব্দ

দেশের অর্থনীতির সূচকগুলো মন্দা অবস্থায়, বেড়েছে বেকারত্ব

টানা চার দিন ধরে মৃদু শৈত্যপ্রবাহে কাঁপছে তেঁতুলিয়া

মালয়েশিয়ার হরাইজন রেমিট এসডিএন বিএইচডির সঙ্গে যমুনা ব্যাংকের চুক্তি

নতুন করে শত্রুরা হত্যাকাণ্ডে মেতে উঠেছে: বিএনপি মহাসচিব

উত্তরায় জুলাই রেবেলস সংগঠনের একজন সদস্যের ওপর হামলা

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ২৪ এর আকাঙ্ক্ষা ধারণ করেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে

বিএনপির মনোনয়ন ঘিরে তীব্র অস্বস্তি, অর্ধশতাধিক আসনে কোন্দল

মৃদু শৈত্যপ্রবাহে কাঁপছে তেঁতুলিয়া, নামছে তাপমাত্রা

হাদির ওপর হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল শনাক্ত, মালিক গ্রেপ্তার

রাজধানীর তিন এলাকায় চারটি ককটেল বিস্ফোরণ, আহত ১

মার্কিন সেনা হত্যায় ‘কঠোর প্রতিশোধের’ হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

আজ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস

শহীদ বুদ্ধিজীবীরা ছিলেন বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইয়ে সম্মুখসারির যোদ্ধা

যুক্তরাষ্ট্রের ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্দুকধারীর গুলিতে ২ শিক্ষার্থী নিহত

শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার শ্রদ্ধা

১৪ ডিসেম্বর ঘটে যাওয়া নানান ঘটনা