
কোনো আধিপত্যবাদী শক্তি নির্বাচনে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করলে বাংলাদেশের জনগণ তা রুখে দেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ১১ দলীয় জোটের আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময় থেকে ঐকমত্য কমিশনের সংস্কার প্রক্রিয়া এবং ১১ দলীয় জোট গঠনে নিরলসভাবে কাজ করেছেন। তার সেই প্রচেষ্টার ফলেই দেশে সংস্কার প্রক্রিয়া এগিয়েছে এবং জুলাই সনদ গণভোটের পর্যায়ে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে ১১ দলীয় জোট একত্রে নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে।
তিনি বলেন, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে ডা. আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে সংসদে পাঠাতে হবে। সংসদে গিয়ে তিনি শুধু চৌদ্দগ্রামের নয়, সারা দেশের মানুষের পক্ষে এবং রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে কথা বলবেন।
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, এই নির্বাচন কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে হাজারো শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা গণতন্ত্রের পথে এগোনোর সুযোগ পেয়েছি। যারা এটিকে সাধারণ নির্বাচন হিসেবে দেখছেন, তারা গণ-অভ্যুত্থানকে অস্বীকার করার চেষ্টা করছেন।
তিনি আরও বলেন, গত ১৬ বছরের মতো এবারও নির্বাচনকে ঘিরে পার্শ্ববর্তী দেশের বিভিন্ন তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একজন কূটনীতিকের মন্তব্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১১ দলীয় জোট ক্ষমতায় এলে ভোট চুরি ছাড়া টিকে থাকতে পারবে না এমন বক্তব্যের মাধ্যমে তারা একটি নির্দিষ্ট দলের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের সরকার কে গঠন করবে, তা নির্ধারণ করার একমাত্র অধিকার এ দেশের জনগণের। কোনো আধিপত্যবাদী শক্তি যদি নির্বাচনে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করে, তবে জনগণই তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
তিনি আরও বলেন, সরকার গঠন করতে পারলে গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার, বিশেষ করে শরিফ ওসমান হাদির হত্যার বিচার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে। সেই বিচার এই বাংলার মাটিতেই নিশ্চিত করা হবে।
আমার বার্তা/এমই

