
২০১৮ সালের অক্টোবরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ জিতেছিল পাকিস্তান। ফরম্যাটটিতে আরেকটি জয় পেতে তাদের সাত বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। গতকাল (বৃহস্পতিবার) সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়াকে ২২ রানে হারিয়েছে সালমান আলি আগাার দল। তাদের দেওয়া ১৬৯ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ট্রাভিস হেডের দল ১৪৬ রানে থেমেছে।
লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে চলমান এই সিরিজে বিশ্বকাপ স্কোয়াডের পাঁচজনকে রাখেনি অস্ট্রেলিয়া। এ ছাড়া প্রথম টি-টোয়েন্টির একাদশে ছিলেন না নিয়মিত অধিনায়ক মিচেল মার্শ ও জশ ইংলিস। ফলে বেশ কয়েকজন তারকা ক্রিকেটারের অনুপস্থিতিতে অজিদের ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়তে হলো। যদিও বল হাতে অ্যাডাম জাম্পা ও জাভিয়ের বার্টলেটরা নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেছেন। সেই মোমেন্টাম ধরে রাখতে ব্যর্ত ব্যাটসম্যানরা।
২০১৮ সালের পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টানা সাতটি টি-টোয়েন্টিতে হেরেছে পাকিস্তান। অবশেষে পাওয়া জয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন সাইম আইয়ুব, ব্যাট হাতে ৪০ রানের পর স্পিন ঘূর্ণিতে ২ উইকেট নিয়ে তিনি ম্যাচসেরা হয়েছেন। পাকিস্তানের ইনিংসে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসটাও সাইমের। টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে ম্যাচের প্রথম বলেই হারায় ওপেনার সাহিবজাদা ফারহানকে। গোল্ডেন ডাক নিয়ে ফেরা এই ব্যাটার বার্টলেটের বলে তাকেই ক্যাচ দিয়েছেন। এরপর ৭৪ রানের জুটিতে সেই বিপদ সামলেছেন সাইম ও অধিনায়ক সালমান আলি আগা।
জাম্পার বলে ক্যাচ আউট হওয়ার আগে সাইম ২২ বলে ৩ চার ও ২ ছক্কায় ৪০ এবং সালমান ২৭ বলে ১ চার ও ৪ ছক্কায় ৩৯ রান করেছেন। এই দুজন আউট হওয়ার সময় পাকিস্তানের রানরেট প্রায় ১০ থাকলেও, পরবর্তী ব্যাটাররা তা টেনে নিতে ব্যর্থ। ধীরগতির ব্যাটিং করেছেন বাবর আজম (২০ বলে ২৪), ফখর জামান (১৬ বলে ১০), উসমান খান (১৪ বলে ১৮) ও মোহাম্মদ নেওয়াজ (১৪ বলে ১৫)। ফলে ২০ ওভারে স্বাগতিকদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৮ উইকেটে ১৬৮ রান।
বিপরীতে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে মাত্র ২৪ রান খরচায় ৪ উইকেট শিকার করেছেন তারকা লেগস্পিনার জাম্পা। এ ছাড়া বার্টলেট ও মাহলি বেয়ার্ডম্যান ২টি করে উইকেট নেন। তাদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের কারণে পাকিস্তানের সংগ্রহটা শেষদিকে আর বড় না হলেও, ব্যাটাররা সেই মোমেন্টাম ধরে রাখতে পারেননি। ৩১ বলে ৩ চার ও ১ ছক্কায় সর্বোচ্চ ৩৬ রান করেছেন ক্যামেরন গ্রিন।
যদিও শুরুটা ভালো ছিল অজিদের। ১.৪ ওভারেই আসে ২১ রান। ম্যাথু শর্টকে ৫ রানে বোল্ড করে তাতে লাগাম টানেন সাইম আইয়ুব। ঝড় তোলার ইঙ্গিত দিয়ে ১৩ বলে ২টি করে চার-ছক্কায় ২৩ রান করেন ট্রাভিস হেড। মাঝে কোনো ব্যাটারই বলার মতো কিছু করতে পারেননি। ম্যাট রেনশ (১১ বলে ১৫), কুপর কনলি (০), মিচেল ওয়েন (৮), জশ ফিলিপ (১২) রান করেছেন। শেষদিকে ২৫ বলে ৩ চার ও ২ ছক্কায় রান করেন ৯ নম্বরে নামা বার্টলেট। তাতে হারের ব্যবধান কমেছে অজিদের।
পাকিস্তানের পক্ষে ২টি করে উইকেট নিয়েছেন সাইম ও আবরার আহমেদ। শাদাব খান ও নেওয়াজ একটি করে শিকার ধরেন। একই ভেন্যুতে আগামী ৩১ জানুয়ারি এবং ১ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় ও তৃতীয় টি-টোয়েন্টি অনুষ্ঠিত হবে।
আমার বার্তা/জেএইচ

