বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কালমেঘা ইউনিয়নের ৩৮ নং ছোনবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির ঘটনায় উপজেলা সহকারি শিক্ষা অফিসার রনজিৎ মিস্ত্রিসহ দুই সদস্যের কমিটির মাধ্যমে তদন্ত হয়।তদন্ত কার্যক্রমে অভিযুক্ত শিক্ষকের প্রভাব বিস্তার ও তদন্ত কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধের অভিযোগ উঠছে।
তদন্ত বিষয়ে ভুক্তভোগী চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী মানসুরার মা আরজু বেগম অভিযোগ করে বলেন, আমি গত ২৭ ফেব্রুয়ারি২০২৫ ইং জেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর শ্লীলতাহানির অভিযোগ করার পর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক মাসুম বিল্লাহ ও তার বাবা মন্নান মাস্টার সহ আরো এক সাংবাদিক আমাকে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে। আমি যাতে অভিযোগ তুলে নি। তদন্তের একদিন আগে রাত বারোটার দিকে আমার বাড়িতে মাসুম বিল্লাহ ও তার বাবা মন্নান মাস্টারসহ এক সাংবাদিক এসে আমার উপর চাপ সৃষ্টি করে।
একটি লিখিত কাগজে স্বাক্ষর নেয় যা আমাকে পড়তে দেয়নি। এবং আমার মেয়ে মানসুরাকে যেন তদন্ত কার্যক্রমে অংশগ্রহণ না করাই। এবং আমাকে বিভিন্ন রকম হুমকি দমকি দেয়। আমার স্বামী একজন প্রবাসী আমার বাড়িতে পুরুষ না থাকায় শুরু থেকেই আমার উপর চাপ সৃষ্টি করে আসছে। আমি বেশি বাড়াবাড়ি করলে আমাকে এলাকা ছাড়া করার হুমকি দেয়। তাই আমি বাধ্য হয়ে কাগজের স্বাক্ষর করি।
গত ১২ মার্চ রোজ বুধবার ৩৮ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় তদন্তের কার্যক্রমে আমি অংশগ্রহণ করলেও আমার মেয়ে মানসুরা কে উপস্থিত করতে পারেনি। কারণ আসার পথে প্রতিপক্ষ গতিরোধ করে মেয়েকে আসতে বাধা দেয়। পরে আমি স্কুলে গেলে প্রতিপক্ষ সহ প্রায় ৫০ থেকে ৭০ জন লোকের উপস্থিতি পাই। সেখানে আমাকে বিভিন্ন রকম ভয়-ভীতি দেখায় এবং জোরপূর্বক আমার বিরুদ্ধে জবানবন্দি নেয়। অভিযোগের বিপরীতে বক্তব্য দিতে বাধ্য করে। প্রতিপক্ষের নিয়োগ কৃত সাংবাদিক রাকিব কাজীসহ ১২ জন সাংবাদিক জোরপূর্ব আমার বক্তব্য আদায় করে।
মানসুরার মা আরজু বেগম আরো বলেন, নিঃস্বার্থে আমার পাশে যেসব সাংবাদিক এসে দাঁড়িয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে রাকিব কাজী নামে এক সাংবাদিক, প্রতিপক্ষ এমন ভাবে চাপ সৃষ্টি করছে যাতে আমি কোথাও যেতে না পারি, কোথাও বক্তব্য দিতে না পারি। আমার স্বামী প্রবাসী হওয়ায় আমার সাহস হচ্ছে না প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কোন মামলায় যেতে।
এদিকে তদন্ত কর্মকর্তা রনজিৎ কুমার মিস্ত্রির তদন্ত কার্যক্রমে পক্ষপাতিত্ব করার অভিযোগ উঠেছে । তিনি একটি শ্লীলতাহানির মতো ঘটনার তদন্তে অভিযোগকারী ও অভিযুক্তকে একই জায়গায় ঢেকে তদন্ত কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন।
এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা রনজিত মিস্ত্রির কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তদন্ত কার্যক্রমে এত মানুষ উপস্থিতি হবে তা আমি ভাবতে পারিনি, আর দুই পক্ষকে এক জায়গায় করে তদন্ত করলে তাতে কোন অসুবিধার কিছু দেখছি না।
এদিকে ওই সাংবাদিক রাকিব কাজীর সাথে মোবাইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এদিকে শ্লীলতাহানির ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে রাকিব কাজী নামে ওই সাংবাদিক পাথরঘাটা মডেল প্রেসক্লাব এর সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক আলোকিত প্রতিদিন পাথরঘাটা উপজেলা প্রতিনিধি মো. জিয়াউল ইসলামকে জড়িয়ে একটি মিথ্যা ও বানোয়াট নিউজ করেছে । মূল ঘটনা ধামাচাপা দিয়ে অপরাধীদের আড়ালে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে দেওয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত ওই সাংবাদিক।
এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষক মাসুম এর বাবা মান্নান মাস্টার ও প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান ,পাথরঘাটা মডেল প্রেসক্লাব এ স্ব-শরীরে হাজির হয়ে ক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কে নিউজ থেকে বিরত রাখতে "এক লক্ষ" টাকা ঘুষ প্রদান করতে চাইলে নিতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে কথিত সাংবাদিক রাকিব কাজী কে দিয়ে মিথ্যা বানোয়াট মনগড়া একটি নিউজ প্রকাশ করে।
এ বিষয়ে পাথরঘাটা মডেল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাকির হোসেন খান এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অভিযুক্ত শিক্ষক মাসুম এর বাবা মন্নান মাস্টার ও প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শ্লীলতাহানির ঘটনায় নিউজ থেকে বিরত রাখতে ক্লাবে এসে ১ লক্ষ টাকা ঘুষ প্রদান করতে চাইলে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে ,নিউজ ধারাবাহিকতা থাকবে ও ভুক্তভোগী পরিবারের পাশে থাকবে পাথরঘাটা মডেল প্রেসক্লাব এমনটি বলেন।
তিনি আরো বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা কৌশলগতভাবে তদন্ত ঢিলে করে শিক্ষক মাসুম বিল্লাহ কে সুযোগ করে দিয়েছে। এতে মাসুম বিল্লাহ প্রভাবিত করে ওই শিক্ষার্থীকে তদন্ত স্থলে উপস্থিত হতে দেয়নি।
উল্লেখ্য,গত ৮ ডিসেম্বর ২০২৪ইং অত্র বিদ্যালয়ের ছাত্রী মানসুরা আক্তার(৯) ৩য় শ্রেণিতে থাকা অবস্থায় অফিস কক্ষে অত্র বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোঃ মাসুম বিল্লাহ তাকে ডেকে নিয়ে শ্লীলতাহানি করে এই মর্মে বরগুনা জেলা শিক্ষা অফিসারের বরাবর গত ২৭ ফেব্রুয়ারি একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন মানসুরার মা আরজু বেগম ।