
ঢাকার আশুলিয়ায় যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র ও ককটেলসহ ঢাকা জেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম মন্ডলসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে উত্তাপ ছড়ানোর আগেই বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ভোর রাতে আশুলিয়ার শ্রীপুর তালপট্টি এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রুবেল হাওলাদার গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, যৌথ বাহিনী অস্ত্রসহ তিনজনকে থানায় সোপর্দ করেছে। গ্রেফতারকৃতরা, ঢাকা জেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম মন্ডল ও তার দুই সহযোগী স্বপন ও ফায়জুল। তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও বিষ্ফোরক আইনে মামলা দায়েরের হয়েছে।
যৌথ বাহিনী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির লক্ষ্যে তারা অবস্থান করছিল—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার ভোরে বলিভদ্র তালপট্টি এলাকায় অভিযান চালানো হয়। পরে গ্রেপ্তারকৃতদের আশুলিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর আশুলিয়ার ধামসোনা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল লতিফ মন্ডল আত্মগোপনে গেলে তার ভাতিজা জাহাঙ্গীর আলম মন্ডল এলাকায় আধিপত্য বিস্তার শুরু করেন। অভিযোগ রয়েছে, চাচার চাঁদাবাজির ঐতিহ্য ধরে রাখতে জাহাঙ্গীর ডিইপিজেড থেকে বলিভদ্র বাজার পর্যন্ত ফুটপাতে ব্যাপক চাঁদাবাজি, ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ ও জমি দখলের সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন।
জাহাঙ্গীরের নিয়ন্ত্রণে একটি বিশাল কিশোর গ্যাং ও নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী রয়েছে বলে জানা যায়। এই বাহিনীর অন্যতম সক্রিয় সদস্য হিসেবে স্বপন (ক্যাডার স্বপন), সোহেল রানা (জুতা সোহেল), শফিক (ঝামেলা শফিক), হাসিব ও ইখতিয়ারসহ বেশ কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে। গত কয়েক মাসে তাদের বিরুদ্ধে কয়েক কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ জমা পড়েছে।
অস্ত্রসহ গ্রেপ্তারের পর জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। অনুসন্ধানে জানাযায়, আশুলিয়া থানায় জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তার দেখানো হলেও গাজীপুরের শ্রীপুর থানায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে পোশাক শ্রমিক জাকির হোসেনকে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় তিনি ৩১ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি। ৫ আগস্ট আন্দোলনে ঢাকা-ময়মনসিংহ রোডের মাওনা এলাকায় ছাত্র-জনতার ওপর হামলাসহ হত্যার অভিযোগ রয়েছে এই জাহাঙ্গীররে বিরুদ্ধে।
পুলিশ জানিয়েছে, চাঁদাবাজি, মারামারি ও হত্যাসহ অসংখ্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকায় বর্তমানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।
আমার বার্তা/মো. মাসুম কবির/এমই

