
আবারও বন্ধ হয়ে গেছে কক্সবাজারের মহেশখালীর এক্সিলারেট এনার্জির এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ। নতুন এলএনজি কার্গো না আসায় তিন দিন ধরে সরবরাহ কমছিল। শেষ পর্যন্ত আজ বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে টার্মিনালটি থেকে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
তবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার একটি এলএনজি কার্গো আসার কথা রয়েছে। সেটি টার্মিনালে যুক্ত হলে আগামীকাল থেকেই আংশিকভাবে গ্যাস সরবরাহ শুরু হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এদিকে গত শনিবার থেকে সামিটের টার্মিনাল পুরোদমে এবং এক্সিলারেটের টার্মিনাল আংশিক চালু হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বেড়েছিল।
কিন্তু এক্সিলারেটের টার্মিনালে থাকা পুরনো এলএনজির মজুদ শেষ হয়ে আসায় সোমবার থেকে সরবরাহ কমতে থাকে। আজ তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, নিয়মিত প্রক্রিয়ার বাইরে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে কম দামে এলএনজি কেনার জন্য কয়েকটি কার্গারের ক্রয়াদেশ দেওয়া হয়েছিল। চলতি মাসে চারটি কার্গো আসার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত একটিও আসেনি। এসব কার্গো সময়মতো না আসায় টার্মিনাল প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও গ্যাস সরবরাহ করা যাচ্ছে না।
জ্বালানি বিভাগের অনুমোদনে এলএনজি আমদানি তদারক করে পেট্রোবাংলা। আর আমদানির দায়িত্বে রয়েছে পেট্রোবাংলার কম্পানি রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল)। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, টার্মিনালে এলএনজির মজুদ না থাকায় এক্সিলারেট থেকে সরবরাহ বন্ধ হয়েছে।
মহেশখালীতে আমদানি করা এলএনজি সরবরাহের দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এর একটি মার্কিন কম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির এবং অন্যটি দেশীয় কম্পানি সামিটের। গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনার পর এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ ২৫ দিন পর গত শনিবার এটি পুনরায় সরবরাহের জন্য প্রস্তুত হয়। তবে নতুন কার্গো না থাকায় পুরনো মজুদ থেকে সীমিত পরিমাণে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল।
বর্তমানে দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৪০০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে বর্তমানে প্রায় ২২০০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ করা হচ্ছে। গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহে বড় ঘাটতি থাকায় শিল্প, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সিএনজি স্টেশন ও আবাসিকে গ্যাস সংকট চলছে।
আমার বার্তা/এমই

