
একের পর এক বড় রানের ইনিংস খেলেও ভারত জাতীয় দলে দীর্ঘদিন উপেক্ষিত থেকেছেন সরফরাজ খান। অনেক আলোচনা-সমালোচনার পর ২০২৪ সালের শুরুতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টে ডাক পান তিনি। কিন্তু বেশি দিন স্থায়ী হননি, ৬ টেস্টে ৩ হাফসেঞ্চুরি ও এক সেঞ্চুরি সত্ত্বেও সরফরাজ এক বছরেরও বেশি সময় আর জাতীয় দলে সুযোগ পাননি। একই উপেক্ষা দেখা গেছে আইপিএলের নিলামেও, কোনোমতে দল পেয়েছেন শেষদিকে।
গত ১৬ ডিসেম্বর দুবাইতে ২০২৬ আইপিএলের মিনি নিলাম অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি বেশ ফর্মে থাকায় নিলামে সরফরাজকে নিয়ে দলগুলো আগ্রহ দেখাবে মনে করা হচ্ছিল। কিন্তু প্রথমবার তার নাম নিলামে তোলা হলেও, আগ্রহ দেখায়নি কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি। পরে এক্সিলারেটেড রাউন্ডে আবার তোলা হলে সরফরাজের জন্য বিড করে চেন্নাই সুপার কিংস। আর কেউ তাতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করায় ভিত্তিমূল্য ৭৫ লাখ রুপিতেই চেন্নাইয়ে ডানহাতি এই ব্যাটারের জায়গা হয়।
অথচ ওই সময়ে চলছিল ভারতের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি লিগ সৈয়দ মুশতাক আলি ট্রফি। যেখানে ৭ ম্যাচে ৬৫.৮০ গড় এবং ২০৩.০৮ স্ট্রাইকরেটে তিনি ৩২৯ রান করেছেন। এরপর ৫০ ওভারের ফরম্যাটে শুরু হয় বিজয় হাজারে ট্রফি। সেখানেও দারুণ ফর্ম দেখাচ্ছেন সরফরাজ। এবারের বিজয় হাজারেতে ৪ ম্যাচে ৩ ইনিংসে ব্যাট করেছেন ২৮ বছর বয়সী এই ব্যাটার, ১১০ গড় এবং ১৭০.৫৪ স্ট্রাইকরেটে তার রান ২২০।
গতকাল (বুধবার) মুম্বাইয়ের হয়ে খেলতে নেমে গোয়ার বিপক্ষে ৭৫ বলে ১৫৭ রানের বিধ্বংসী একটি ইনিংস খেলেছেন সরফরাজ। তার এই ইনিংস সাজিয়েছেন ৯টি চার ও ১৪টি ছক্কার সাহায্যে। এদিন সরফরাজ ৫৬ বলে ম্যাজিক ফিগার পূর্ণ করেন। লিস্ট এ শ্রেণির ম্যাচে এটি তার তৃতীয় সেঞ্চুরি এবং সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের ইনিংস। একই দলের হয়ে এর আগে ৫০ বলে সেঞ্চুরির রেকর্ড আছে সূর্যকুমার যাদব ও শ্রেয়াস আইয়ারের।
সরফরাজের ছোট ভাই মুশির খানও একই ইনিংসে ৬০ রান করেছেন। সবমিলিয়ে ৫০ ওভার শেষে মুম্বাইয়ের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৮ উইকেটে ৪৪৪ রান। পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়ায় গোয়াও ব্যাট হাতে ঝড় তোলে। অভিনব তেজরানার সেঞ্চুরি ও দুই ব্যাটারের ফিফটিতে তারা করে ৩৫৭ রান। ফলে ৮৭ রানের জয় পায় মুম্বাই।

