ই-পেপার বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩

ক্ষমতার পালাবদল হলেও চাঁদাবাজির সংস্কৃতি অপরিবর্তিত

জামিল হোসেন
০২ আগস্ট ২০২৫, ১৪:৫৮

বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ক্ষমতার পালাবদল বহুবার হয়েছে। এক সরকার গিয়েছে, আরেক সরকার এসেছে। ক্ষমতার এই পরিবর্তনে সমাজে অনেক পরিবর্তন এসেছে, নীতিমালা বদলেছে, প্রশাসনের ধরনেও পরিবর্তন দেখা গেছে। তবে কিছু নেতিবাচক দিক রয়ে গেছে আগের মতোই, যার মধ্যে চাঁদাবাজি সংস্কৃতি অন্যতম। চাঁদাবাজি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে একটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে। চাঁদাবাজি একটি অপরাধমূলক কার্যকলাপ, যেখানে কোন ব্যক্তি ক্ষমতার প্রভাব ব্যবহার করে অন্য কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান থেকে জোরপূর্বক অর্থ আদায় করে। যদিও সময়ের সাথে সাথে রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তন এসেছে, তবুও চাঁদাবাজি সংস্কৃতি কমেনি, বরং এটি বিভিন্ন রূপে অব্যাহত রয়েছে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: বাংলাদেশে চাঁদাবাজির সংস্কৃতি মূলত স্বাধীনতা-পরবর্তী সময় থেকে শুরু হয়। ১৯৭১ সালের পর যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতি ও অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর উত্থান ঘটে। ১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশকে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা ও সংঘাতের সময় চাঁদাবাজি একটি সংগঠিত অপরাধ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। রাজনৈতিক নেতারা প্রায়শই স্থানীয় অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর সাথে জোট বেঁধে তাদের ক্ষমতা বৃদ্ধি করতেন, এবং এর বিনিময়ে এসব গোষ্ঠীকে চাঁদাবাজির সুযোগ দেওয়া হতো।

রাজনৈতিক সংযোগ: বাংলাদেশের রাজনীতিতে চাঁদাবাজির সংস্কৃতি রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় নেতারা চাঁদাবাজি করে আদায়কৃত অর্থ দলীয় তহবিলে জমা দেন বা নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করেন। আবার কিছু ক্ষেত্রে অপরাধী গোষ্ঠী সরাসরি রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা পায়, যা তাদেরকে আইনের ঊর্ধ্বে থাকার সুযোগ দেয়। রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা না থাকলে চাঁদাবাজি সংস্কৃতি এতটা বিস্তৃত হতো না।

ক্ষমতার পরিবর্তন ও চাঁদাবাজি: বাংলাদেশে ক্ষমতার পরিবর্তন হলেও চাঁদাবাজি সংস্কৃতি কমেনি। এর প্রধান কারণ হল রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতায় আসার পর তাদের সমর্থক গোষ্ঠীগুলোর স্বার্থ রক্ষা করে। নতুন সরকার ক্ষমতায় এলে পূর্ববর্তী সরকারের সমর্থক গোষ্ঠীগুলোর চাঁদাবাজি কিছুটা কমে, কিন্তু নতুন ক্ষমতাসীন দলের সমর্থক গোষ্ঠী একই পদ্ধতি অবলম্বন করে। ফলে চাঁদাবাজি সংস্কৃতি চক্রাকারে চলতে থাকে।

চাঁদাবাজির প্রভাব: চাঁদাবাজি সংস্কৃতি বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য একটি বড় বাধা। এটি শুধু অপরাধ নয়, বরং ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে একটি বড় প্রতিবন্ধক। চাঁদাবাজি সংস্কৃতি বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে নানাভাবে:

ব্যবসায়ীদের উপর চাপ: ব্যবসায়ীরা নিয়মিত চাঁদা দিতে বাধ্য হন, যা তাদের জন্য অতিরিক্ত বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। এই চাঁদার টাকা পণ্যের দাম বাড়িয়ে বিক্রি করা হয়, যার ফলে সাধারণ ক্রেতাদের বেশি দাম দিতে হয়।

বিনিয়োগের পরিবেশ নষ্ট: বিদেশি বা স্থানীয় বিনিয়োগকারীরা চাঁদাবাজির মতো অপরাধমূলক কার্যকলাপ দেখে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে ভয় পান। এর ফলে দেশে বিনিয়োগ কমে যায়, যা অর্থনৈতিক উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে।

ছোট ব্যবসায়ীদের ক্ষতি : ছোট ব্যবসায়ীরা চাঁদাবাজির সবচেয়ে বড় শিকার। তাদের আয় কম, কিন্তু চাঁদা দিতে না পারলে তাদের ব্যবসা বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

রাষ্ট্রের রাজস্ব ক্ষতি: চাঁদাবাজির মাধ্যমে আদায়কৃত টাকা রাষ্ট্রের খাতে যায় না, বরং তা অপরাধী গোষ্ঠীর পকেটে চলে যায়। এর ফলে সরকারের রাজস্ব আয় কমে যায়।

চাঁদাবাজি রোধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

নিচে তাদের ভূমিকা তুলে ধরা হলো

  • চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা
  • চাঁদাবাজদের গ্রেপ্তার করে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা
  • ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা প্রদান
  • ব্যবসায়ীদের চাঁদাবাজদের হুমকি থেকে রক্ষা করা।
  • চাঁদাবাজি সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে অপরাধীদের শনাক্ত করা।
  • চাঁদাবাজির কুফল সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা।
  • প্রযুক্তির ব্যবহার: সিসি ক্যামেরা, মোবাইল ট্র্যাকিং এবং ডিজিটাল নজরদারি ব্যবস্থার মাধ্যমে চাঁদাবাজদের শনাক্ত করা।

সমাধানের উপায়: চাঁদাবাজি সংস্কৃতি রোধ করতে হলে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি প্রয়োজন। কারণ, বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চাঁদাবাজি সংস্কৃতি একটি জটিল ও বহুমাত্রিক সমস্যা। ক্ষমতার পরিবর্তন হলেও এই চাঁদাবাজি সংস্কৃতি রোধ করা সম্ভব হয়না, কারণ এটি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থের সাথে গভীরভাবে জড়িত।

লেখক: জামিল হোসেন, অনলাইন নিউজ এডিটর, দৈনিক আমার বার্তা, ঢাকা।

"পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি" চুক্তির বিরুদ্ধে রাজপথে আপোষহীন ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া

বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক `আপোষহীন' নেতৃত্বের নাম।রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকেই শেষ পর্যন্ত তিনি

শিক্ষক নিয়োগে বৈষম্য: ১-১২তম ব্যাচের নিবন্ধিতদের ন্যায়বিচার দাবি

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা যেন এক অন্ধকার গহ্বরে নিমজ্জিত। বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যায়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)

শিক্ষা-শিল্প ফাঁক কমাতে কাঠামোগত সংস্কার জরুরি

বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা গত এক দশকে বিস্তারের দিক থেকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা

হাদির ওপর হামলা, শান্তির পথে কাঁটা ছড়াচ্ছে কারা?

বহু প্রতীক্ষা ছিল। নতুন দিনের স্বপ্ন দেখছিল দেশ। নির্বাচন কমিশন ‘তফসিল’ ঘোষণা করল। নির্বাচনের ট্রেন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদুল হাসান আর নেই

খালেদা জিয়ার জানাজায় তারেক রহমানকে সান্ত্বনা জানালেন প্রধান উপদেষ্টা

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খালেদা জিয়ার জানাজা, গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ

জানাজায় বিপুল জনসমাগম মৃতের জন্য যে সৌভাগ্য বয়ে আনে

রাষ্ট্রীয় শোকে রাজধানীতে আতশবাজি-সব ধরনের উৎসব নিষিদ্ধ: ডিএমপি

মাকে কবরে রেখে বিষণ্ন মনে বাসায় ফিরলেন তারেক রহমান

নতুন বছরে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা বেগবান হবে: আশা প্রধান উপদেষ্টার

ভারতে চলন্ত ভ্যানে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, ২ ঘণ্টা পর রাস্তায় নিক্ষেপ

পোস্টাল ভোট দিতে ১১ লাখ নিবন্ধন, ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় বাড়াল ইসি

খালেদা জিয়া স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক হয়ে ছিলেন: আনিসুল ইসলাম

মধুপুরে যানজট নিরসনে প্রশাসনের মতবিনিময় সভা

"পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি" চুক্তির বিরুদ্ধে রাজপথে আপোষহীন ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া

সম্পর্ক উন্নয়নে খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে: চীনা মুখপাত্র

ডাকাতির গরু বাঁচাতে ক্যাভার্ড ভ্যানে অক্সিজেন রাখতেন ডাকাত

কথা রাখলেন খালেদা জিয়া, দেশের মাটিতে স্বামীর পাশে চিরনিদ্রায়

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে ছবি-ভিডিও বানাবেন যেভাবে

জানাজায় অংশ নিতে আসা বিদেশি অতিথিদের সঙ্গে উপদেষ্টাদের সাক্ষাৎ

সিলেট স্টেডিয়ামে খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া অনুষ্ঠিত

বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় ৫০ প্লাটুন আনসার ও টিডিপি মোতায়েন

খালেদা জিয়ার জানাজায় পদদলিত হয়ে একজনের মৃত্যু