
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলায় দাখিল করা চার্জশিটের বিষয়ে কোনো আপত্তি আছে কি না তা জানাতে মামলার বাদীকে আগামী সোমবার (১২ জানুয়ারি) আদালতে উপস্থিত হওয়ার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের সংশ্লিষ্ট সাধারণ নিবন্ধন শাখা বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) এ নোটিশ জারি করেন।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। বুধবার (৭ জানুয়ারি) বিচারক জশিতা ইসলাম চার্জশিটটি ‘দেখিলাম’ বলে স্বাক্ষর করেন। এরপর চার্জশিটে কোনো আপত্তি রয়েছে কি না, সে বিষয়ে বক্তব্য শুনতে বাদীকে আদালতে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
ডিবির চার্জশিটে অভিযোগ প্রমাণের জন্য মোট ৭৭ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। সাক্ষীদের তালিকায় রয়েছেন- মামলার বাদী ও ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের, নিহত হাদির ভাই ওমর বিন হাদী, চিকিৎসক ডা. মো. মাহফুজুর রহমান, আহত হাদিকে বহনকারী রিকশাচালক কামাল হোসেন, ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, জব্দ তালিকা ও রেকর্ড প্রস্তুতকারী পুলিশ সদস্য এবং একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী।
চার্জশিটভুক্ত ১৭ আসামির মধ্যে বর্তমানে ১১ জন কারাগারে আটক রয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন- ফয়সাল করিম মাসুদের বাবা মো. হুমায়ুন কবির, মা মোসা. হাসি বেগম, স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু, রেন্ট-এ-কার ব্যবসায়ী মুফতি মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বলসহ অন্যরা।
এদিকে শুটার ফয়সাল করিম মাসুদসহ ছয়জন পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেছে পুলিশ। পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন—ফয়সালের সহযোগী আলমগীর হোসেন, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলার তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, ফিলিপ স্মাল পিলিপস, মুক্তি আক্তার এবং ফয়সালের বোন জেসমিন আক্তার।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে শরিফ ওসমান হাদির মাথায় গুলি করে দুর্বৃত্তরা। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর ওসমান হাদিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
১৯ ডিসেম্বর হাদির মরদেহ দেশে আনা হয়। শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সংলগ্ন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিসৌধের পাশে শরিফ ওসমান হাদিকে দাফন করা হয়।
ঘটনায় গত ১৪ ডিসেম্বর রাতে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। ওসমান হাদি মৃত্যুবরণ করলে যা হত্যা মামলা হিসেবে নেওয়া হয়।
আমার বার্তা/এল/এমই

